আকাশজমিন ডেস্ক
রংপুর-৩ আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জি এম কাদের। ওই আসনের এমপি সাদ এরশাদ আগামী নির্বাচনেও মনোনয়নের নিশ্চয়তা চান। মসিউর রহমান রাঙ্গা রংপুর-১ আসনের এমপি। ২০০৮ সালে ওই আসনের এমপি ছিলেন এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার মকবুল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে রওশনের ‘আশীর্বাদে’ এমপি হন রাঙ্গা। জি এম কাদের নেতৃত্বে আসার পর দলীয় রাজনীতিতে ফিরেছেন আসিফ। তিনি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান।
জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে এমপি হয়েছেন। এই আসনে প্রার্থী হতে চান সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং রওশনের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ। জাপার সাবেক এই প্রেসিডিয়াম সদস্যকে ‘কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির’ সদস্য সচিব করেছেন রওশন।
লিয়াকত হোসেন বলেছেন, গোলাম মসীহ অনেক আগে দল ছেড়েছেন। বিদেশে থাকা গোলাম মসীহর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে তিনি একাধিকবার সমকালকে বলেছেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে জাপায় আছেন। দল করতে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। রওশন এরশাদকে ছাড়া কেউ এমপি হতে পারবে না।
আবারও বিরোধে জড়িয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। রওশনের পক্ষ নিয়ে জাপা থেকে বহিষ্কার হওয়া মসিউর রহমান রাঙ্গা, জিয়াউক হক মৃধাসহ কয়েক নেতাকে দলে ফেরাতে রাজি নন জি এম কাদের। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন অনিশ্চিত বলে রওশনপন্থি কয়েকজনও ঐক্যে নারাজ। এদিকে রওশন বলয়ের সবাইকে দলে ‘পুনর্বাসনে’ রাজি নন জি এম কাদেরপন্থিরা। এই তিন কারণেই দেবর-ভাবির বিরোধ মিটছে না।
টানা কয়েক মাসের বিরোধে জাপা ভাঙনের মুখে পড়ে গত বছর। চলতি বছরের শুরুতে ‘সরকারি মধ্যস্থতায়’ সমঝোতা হয়। গত ৯ জানুয়ারি রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের যুক্ত বিবৃতিতে ঐক্যের ডাক দেন। বছরের প্রথম দিনে জাপার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জি এম কাদেরের সঙ্গে এক মঞ্চে ছিলেন রওশন এরশাদ এবং তাঁর ছেলে রংপুর-৩ আসনের এমপি রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ।
তাঁরা এক মঞ্চে আসায় ধারণা করা হচ্ছিল, বিরোধ মিটেছে। আদালতের রায়ে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জাপার এমপি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিয়ে যৌথ সভা করেন জি এম কাদের। তাতে যোগ দেন জাপার যুগ্ম মহাসচিব সাদ এরশাদও। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, রওশনের পক্ষ নিয়ে জি এম কাদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এবং মামলা করে দলীয় চেয়ারম্যানকে নিষেধাজ্ঞার ফাঁদে ফেলা সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধা ক্ষমা পাবেন না। এতেই সূত্রপাত হয় বিরোধের। এই ধারাবাহিকতায় ২০ মার্চ পৃথকভাবে অনুসারীদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্মদিন পালন করেন রওশন এরশাদ। গত সোমবার নিজ অনুসারীদের নিয়ে ইফতার করেন। তাতে দাওয়াত পাননি জি এম কাদের, জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
জি এম কাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে লাগাতার সমালোচনা করলেও দুই অনুষ্ঠানেই রওশন বলেন, সাংবিধানিক ধারা মেনে হবে আগামী নির্বাচন। তাতে অংশ নেবে জাপা। এরশাদের দিয়ে যাওয়া নির্দেশনা যাঁরা মানবেন না, তাঁরা দলের ও নিজের ক্ষতি ডেকে আনবেন। এ ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হলে দলের সংস্কার করতে হবে কাউন্সিল করে।
রওশনপন্থিদের ভাষ্য, যেসব শর্তে ‘সরকারি মধ্যস্থতায় সমঝোতা’ হয়েছিল তা রক্ষা করেননি জি এম কাদের। রওশনের পক্ষে রয়েছেন জাপার আট সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, যাঁদের বাদ দিয়েছিলেন জি এম কাদের। তাঁদের দলে পুনর্বহাল করা হয়নি। দশম সংসদের চারজনসহ অন্তত ১০ জন সাবেক মন্ত্রী-এমপি রয়েছেন রওশনের পক্ষে। তাঁদেরও দলে নিচ্ছেন না জি এম কাদের। জি এম কাদের বলেছেন, কাউকে ‘পুনর্বাসন’ করা হবে না। তিনি সমকালকে বলেন, দল থেকে বাদ পড়া এবং বহিষ্কৃত কিছু নেতা রওশন এরশাদের নাম ব্যবহার করে, তাঁকে সামনে রেখে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁরা যা ইচ্ছা করতে পারেন। তাঁদের নিয়ে জাতীয় পার্টির আগ্রহ নেই। রওশনের অনুষ্ঠানে জাপার তিনি এমপি– গোলাম কিবরিয়া টিপু, নাজমা আকতার এবং রওশন আরা মান্নান গিয়েছিলেন। জি এম কাদের বলেছেন, ‘টিপু মনে করেছিলেন ম্যাডাম (রওশন) ডেকেছেন। তাই না বুঝে গিয়েছিলেন।’
আকাশজমিন/ আরজে