ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন হবে না: সতর্ক করল ওয়াশিংটন!


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১০:১৫ এএম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার হঠাৎ পতন ঘটাতে সক্ষম হবে না। তবে এসব আগ্রাসী পদক্ষেপ ইরানের ভেঙে পড়া অর্থনীতি এবং দেশটির অত্যন্ত প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিশাল পরিচালন তহবিলে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখমুখী করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপসহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে পেন্টাগনের এই সাবেক উচ্চপদস্থ সামরিক বিশেষজ্ঞ বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ কৌশল ও আন্তর্জাতিক সামরিক রাজনীতির নানামুখী গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকার প্রদানকালে পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল মুলরয় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের নতুন এই আর্থিক নিষেধাজ্ঞার সামগ্রিক রূপরেখা ও ভৌগোলিক পরিধি শুধু ইরানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মূল অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরের এসব বহুমাত্রিক কঠোর পদক্ষেপের সরাসরি প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত বাণিজ্যিক, সামরিক ও নানামুখী আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক বজায় রেখেছে—এমন সব আন্তর্জাতিক দেশ, বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোকেও সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

মাইকেল মুলরয়ের সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষণের ভাষায়, ওয়াশিংটনের এই নতুন পদক্ষেপগুলো মূলত অত্যন্ত শক্তিশালি 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' বা দ্বিতীয় স্তরের বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা। যার সহজ অর্থ দাঁড়ায়, তেহরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন বা আর্থিক কার্যক্রমে যুক্ত কোনো স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের ওপরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমান গুরুত্বের সাথে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে। এই কঠোর আইনের সুযোগ নিয়ে এশিয়ার উদীয়মান পরাশক্তি চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী রাষ্ট্র এবং বিশ্বজুড়ে ইরানের নিয়মিত আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করে আসা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসা হতে পারে বলে সতর্ক করেন এই সাবেক উপসহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

একই সাথে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ইরানের স্পর্শকাতর তেল বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক রুটগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে মুলরয় জানান, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিশ্ববাজারে পণ্য বিক্রির লক্ষ্যে তেহরান এতকাল ধরে যে সুসংগঠিত বিকল্প অবকাঠামো ও বিশেষ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আসছিল, তার বিরুদ্ধেও এবার সমানতালে কঠোর ও আক্রমণাত্মক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে বেআইনিভাবে ইরানি তেল পাচার করার কাজে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত রহস্যময় 'শ্যাডো ফ্লিট' বা ছায়া নৌবহরকে শতভাগ অচল করে দেওয়ার ওপর এবার সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

তবে এসব কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের সামগ্রিক কার্যকারিতা ও চূড়ান্ত রূপায়ণের ক্ষেত্রে বেশকিছু সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলেও পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার আলোকে নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন মুলরয়। তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও গভীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেবল বৈদেশিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার খড়্গ চাপিয়ে ইরানের বিদ্যমান রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার চূড়ান্ত পতন ঘটানো কোনোক্রমেই বাস্তবসম্মত বা সম্ভব নয়। তবে এসব অর্থনৈতিক চাপ ও অন্তর্বর্তী অবরোধের দরুন দেশীয় অর্থনীতি যেমন পঙ্গু হবে, তেমনই আইআরজিসির বিশ্বব্যাপী সামরিক কার্যক্রম পরিচালন সংক্রান্ত আর্থিক প্রবাহে মারাত্মক ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় এই ক্ষমতাধর সশস্ত্র সংগঠনটির অর্থের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

সাক্ষাৎকারে মুলরয় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ জনমতের বাস্তবতাকেও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে আসেন। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের আসন্ন জাতীয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সুদূরপ্রসারী এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তে পরোক্ষভাবে অত্যন্ত বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ ও সার্বিক জনমতের কাছে এই মুহূর্তে দূরপ্রাচ্যে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে সরাসরি কোনো দীর্ঘমেয়াদি সামরিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া একেবারেই জনপ্রিয় কোনো সিদ্ধান্ত নয়। ফলে মার্কিন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে আন্তর্জাতিক সামরিক উত্তেজনা আর না বাড়িয়ে বা সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে কেবল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকেই তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশলগত প্রধান বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

তবে সামরিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও আগামী দিনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক মোড় নেওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলকে চরমভাবে সতর্ক করেছেন পেন্টাগনের এই প্রবীণ সাবেক কর্মকর্তা। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে কোণঠাসা ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো অঞ্চলে যুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মিত্র দেশ কিংবা সরাসরি কোনো আমেরিকান সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বসে, তবে বিদ্যমান এই নীরব অর্থনৈতিক অচলাবস্থা নিমেষেই সরাসরি সর্বাত্মক ও ধ্বংসাত্মক সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর