কলকাতার অতিপরিচিত ও ব্যস্ততম নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ মোট ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মর্মান্তিক এ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তারা ভারতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
গতকাল রাত আনুমানিক ২টার দিকে হোটেলটিতে আকস্মিক আগুন লেগে যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, হোটেলের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি (AC) বিস্ফোরণের কারণেই এই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দ্রুত হোটেলের ৩ তলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবন ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
নিউ মার্কেট হলো কলকাতার অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু গলিবেষ্টিত এলাকা। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই কলকাতা ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ৪টি ইউনিট অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের একটি বিশেষ দলও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয়।
তবে দুর্ঘটনাস্থলটি সরু গলির ভেতরে হওয়ায় অগ্নির্বাপক দলের জন্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। গলির সংকীর্ণতার কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো ভেতরের প্রবেশপথে ঢোকাতে বেগ পেতে হয়। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মীদের হোটেলের বাইর থেকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে হয়। পরবর্তীতে ভেতরের আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে হোটেলের মূল ভবনে প্রবেশ করেন এবং কক্ষগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান।
নিউ মার্কেট থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে (PTI) সার্বিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে জানান, আগুন লাগার পরপরই হোটেলের কক্ষগুলো বিষাক্ত ধোঁয়ায় সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তীব্র ধোঁয়ার কারণে ভেতরে ঢোকা এবং আটকে পড়া অতিথিদের দ্রুত বের করে আনা উদ্ধারকারীদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযানের সময় হোটেলের বিভিন্ন ঘর থেকে একাধিক অতিথিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মধ্যে ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষাক্ত ধোঁয়া ও উদ্ধারকাজের জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসাধীনদের পরিস্থিতি এবং সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় মৃতের সংখ্যা সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া ওই পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতদের কারো শরীরে সরাসরি আগুনে পোড়ার বা ঝলসানোর গুরুতর কোনো ক্ষত পাওয়া যায়নি। ঘরের ভেতরে আটকে পড়ার পর এসি বিস্ফোরণজনিত তীব্র ও বিষাক্ত ধোঁয়া পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এবং অক্সিজেনের অভাবে দমবন্ধ হয়েই চিকিৎসাধীন এই বাংলাদেশি নাগরিকদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পুরো ঘটনার বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত শুরু করেছে। - সূত্র- এনডিটিভি