আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নতুন সরকার গঠনে আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ সুইডেনের মানুষ। এই নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় এই ভোটাভুটির মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে সুইডেন কি কট্টর ডানপন্থী আদর্শ ও রক্ষণশীল কাঠামোর দিকে মোড় নেবে, নাকি তাদের ঐতিহ্যগত উদারপন্থী নীতি ও সামাজিক কল্যাণমুখী ব্যবস্থায় ফিরে যাবে। ইউরোপজুড়ে অতি-ডানপন্থার ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে সুইডেনের এই ভোটগ্রহণ বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রক ও বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে বিরোধী নেতা ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থী দল ‘সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস’ সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় অত্যন্ত শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে নিজেদের বিজয় সুনিশ্চিত হলে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টারসন কট্টর-ডানপন্থী দল ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’কে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা সুইডেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ধারার সূচনা করবে।
ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোট তাদের নির্বাচনী প্রচারে বিগত চার বছরের প্রশাসনিক সফলতার কথা তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, চার বছর মেয়াদে তাদের গৃহীত নানা কঠোর পদক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাং অপরাধ দমনে এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অভূতপূর্ব কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে। তাঁরা মনে করেন, সুইডেনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এই নীতি অব্যাহত রাখা দরকার। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের প্রধান অ্যান্ডারসন ক্রিস্টারসন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান ডানপন্থী প্রশাসনের অদূরদর্শী নীতির কারণে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে। একই সাথে দিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।
চলতি নির্বাচনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে সুইডেনের অভ্যন্তরীণ দলগুলোর মধ্যে কিছুটা দৃষ্টিভঙ্গির মিল দেখা গেছে। বিশেষ করে ইউরোপের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রতি জাতীয় সমর্থন বজায় রাখা এবং সুইডেনের প্রতিরক্ষা ও দেশের সামরিক সুরক্ষা জোরদার করার বিষয়ে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরই একমত পোষণ করেছে। তবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় কর কাঠামো এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থার মতো মৌলিক নীতিগত বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর ও স্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় সুইডেনজুড়ে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে একযোগে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশের সাধারণ নাগরিকরা সকাল থেকেই তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকল কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই প্রাথমিক আভাস পেতে সম্ভাব্য ফলাফলের সরকারি ও বেসরকারি এক্সিট পোল প্রকাশ করা হবে, যা থেকে পরবর্তী সরকার গঠনের প্রধান সমীকরণগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে।