ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি

গাজা-ইরান-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ব্রিকসের কঠোর বার্তা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৫৭ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের যেকোনো নীতির বিরোধিতা করেছে ব্রিকস নেতারা। একই সঙ্গে ইরান ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত প্রতিরোধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণ করা হয়। এতে গাজায় চলমান সহিংসতা, পারমাণবিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি, বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একতরফা বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

 

ঘোষণায় ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো নীতি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে কিংবা দখলদারিত্বকে বৈধতা দিতে বা দীর্ঘায়িত করতে পারে—এমন যেকোনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও অবস্থান জানিয়েছে ব্রিকস।

 

ব্রিকস নেতারা বলেছেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধান কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়েই সম্ভব। এ জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার, বিশেষ করে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দখলকৃত জেরুজালেমের আইনগত ও ঐতিহাসিক অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া একতরফা যেকোনো পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে জোটটি।

 

ঘোষণায় জেরুজালেমের সব ধর্মীয় স্থাপনা ও পবিত্র স্থানগুলোর পবিত্রতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে সবার ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার এবং কোনো ধরনের বাধা ছাড়া ধর্মীয় স্থানে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

 

লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী বা ইউনিফিলের স্থাপনা ও কর্মীদের ওপর হামলারও নিন্দা জানিয়েছে ব্রিকস। জোটটির নেতারা বলেছেন, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

 

বিশ্বের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মেরুকরণ ও অবিশ্বাস বাড়ছে উল্লেখ করে ব্রিকস নেতারা সংঘাতের সম্ভাবনা কমাতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান। সংঘাতের মূল কারণগুলো চিহ্নিত ও সমাধানের মাধ্যমে সংঘাত প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

ব্রিকস বলেছে, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর উচিত সংঘাত প্রতিরোধ ও সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা। সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়ক সব ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন করার কথাও ঘোষণা করেছে জোটটি। ইরান ও ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটের প্রেক্ষাপটে কূটনীতি, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

 

পারমাণবিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকস। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ‘ইচ্ছাকৃত হামলার’ বিষয়েও গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছে জোটটি। ব্রিকস নেতারা বলেছেন, সশস্ত্র সংঘাতের সময়ও পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। এর লক্ষ্য মানুষ ও পরিবেশকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ব্রিকস। জোটের নেতারা মনে করেন, বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের মধ্যে রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ একতরফা শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যকে বিকৃত করছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

 

ব্রিকস নেতারা একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞাসহ একতরফা বাধ্যতামূলক অর্থনৈতিক পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এসব পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাধারণ মানুষের মানবাধিকার, উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এসব পদক্ষেপে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

ব্রিকস আরও বলেছে, একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ বৈশ্বিক ডিজিটাল বিভাজন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশগত সংকটকেও আরও তীব্র করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পরিচালনায় বহুপক্ষীয় কাঠামো, আন্তর্জাতিক আইন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।



এ সম্পর্কিত আরো খবর