ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

পরিদর্শনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী

কলকাতায় হোটেলে নিহত বাংলাদেশীরা গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য


পরিদর্শনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী

  • আপলোড সময় : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১২:০৬ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি বাণিজ্যিক হোটেলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ জন অতিথির সকলেই বাংলাদেশী নাগরিক ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি কলকাতা ও বাংলাদেশে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে নিউ মার্কেটের অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ওই হোটেলে হঠাৎ করেই আগুনের বিকট সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ও বিষাক্ত ধোঁয়া পুরো ভবনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে গভীর রাতে অস সতর্ক অবস্থায় হোটেলে অবস্থানরত বেশ কয়েকজন অতিথি ভেতরের বিভিন্ন কক্ষে আটকা পড়েন এবং প্রাণভয়ে বাঁচতে আর্তনাদ শুরু করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে শুরু হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের বিশাল উদ্ধার অভিযান।

এদিকে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ঘটনাস্থল ও উদ্ধার তৎপরতা প্রত্যক্ষভাবে পরিদর্শনে ছুটে যান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চপর্যায়ের তিন মন্ত্রী। তাদের মধ্যে ছিলেন রাজ্য সরকারের পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তারা উদ্ধারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিকট শব্দে বিস্ফোরণের মাধ্যমেই এই ভয়াবহ আগুনের মারাত্মক সূত্রপাত ঘটেছিল। তবে সুনির্দিষ্টভাবে আগুন লাগার আসল কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে পৌঁছায় দমকল বাহিনীর চারটি আধুনিক গাড়ি। পরিস্থিতি জটিল রূপ নেওয়ায় পরবর্তীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন। দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনীর সদস্যরা ভবনের ভেতরে বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে জীবন বাজি রেখে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে বের করে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালান এবং অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে স্থানীয় এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ‘হোটেলের ভেতরের প্রতিটি গলি ও সিঁড়িতে অত্যন্ত ঘন ধোঁয়া জমে থাকায় দমকলকর্মীদের ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হয়েছে এবং ব্যাপক বেগ পোহাতে হয়।’ তিনি আরও হতাশার সঙ্গে জানান, ‘এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।’

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেন যে, ‘আটকে পড়া সব অতিথিকে দ্রুত উদ্ধার করা এবং অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খুঁজে বের করাই এখন আমাদের মূল অগ্রাধিকার। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং এখন পুড়ে যাওয়া ভবনটি দ্রুত ঠান্ডা করার কাজ সমানতালে চলছে।’

উল্লেখ্য যে, কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের এই হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বিখ্যাত তারাপীঠ এলাকায় আরেকটি বিলাসবহুল হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডব ঘটেছিল। গত ১৭ আগস্ট ভোরে তারাপীঠের 'হোটেল বিদেষিণী' নামক পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ আগুন লাগে। ওই সময় বেশিরভাগ অতিথিই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ফলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। হোটেলটি ঐতিহাসিক তারাপীঠ মন্দিরের কাছে একটি পবিত্র পুকুরের ঠিক পাশেই অবস্থিত। সেই অগ্নিকাণ্ডেও অন্তত ৮ জন নিহত ও বহু মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন। বীরভূমের ওই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে নিহতদের মধ্যে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে নিষ্পাপ দুটি শিশুও ছিল। পরিবারটি হোটেলের একদম ওপরের তলার রুমে অবস্থান করছিল।

সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে পরপর হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির এসব ঘটনা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়ে বাংলাদেশী নাগরিকদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু দুই দেশের মানুষকেই গভীরভাবে ব্যথিত ও স্তম্ভিত করেছে। প্রশাসনিক পর্যালোচনার পাশাপাশি নিহতের স্বজনদের কাছে দ্রুত লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সূত্র: স্টার নিউজ


এ সম্পর্কিত আরো খবর