ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ

নেপাল ও তিব্বতে পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ৬৩৩


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১:৫৪ পিএম

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং ভৌগোলিক সীমান্তের অপর পাশে অবস্থিত চীনের তিব্বত প্রদেশের গিরং জেলায় আকস্মিক ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বানের পর নিহতের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দলগুলো এ পর্যন্ত মোট ৬৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব মরদেহের মধ্যে ৬২৬টি নেপালের রাসুয়া এলাকা থেকে এবং বাকি ৭টি মরদেহ চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

উদ্ধার করা মরদেহের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে নিখোঁজের তালিকাও। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু এবং চীনের রাজধানী বেইজিং প্রশাসনের সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাসুয়া এবং গিরং জেলায় এ পর্যন্ত মোট নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনে গিয়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শুধু নেপালের ভূখণ্ডে নিখোঁজ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন মানুষ এবং চীনের তিব্বত অংশে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৮ জনে। পাহাড় থেকে তীব্র বেগে নেমে আসা পানিতে ভেসে গিয়ে কিংবা ভয়াবহ বানের সঙ্গে আসা ঘন কাদা, পাথর ও আবর্জনার স্তূপের তলায় তলিয়ে গিয়ে তারা নিখোঁজ হয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিপুলসংখ্যক নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে স্থানীয় নেপালি ও তিব্বতিদের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের ৮০০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

 

উৎসমূল পর্যালোচনা করে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট বুধবার পাহাড়ি এলাকার ভোতিকোশি এবং তার অন্যতম শাখানদী লেহন্দে নদীর প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট একটি ব্যারিয়ার হ্রদ আচমকা ভেঙে পড়ে। হিমবাহের তুষার, পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে গিয়ে নদীতে এই কৃত্রিম জলাধার তৈরি হয়েছিল। এই হ্রদ ভাঙার ফলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার মুখোমুখি হয় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত সংলগ্ন রাসুয়া জেলা এবং তিব্বতের গিরং জেলা। পাহাড় থেকে নেমে আসা লাখ লাখ ঘনমিটার ধ্বংসাত্মক পানি এবং তার সঙ্গে বয়ে আনা শত শত টন কাদা, পাথর ও জঞ্জালে নিমেষেই ঢেকে যায় দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর বিস্তীর্ণ জনপদ।

 

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে একটি নতুন প্রাকৃতিক হুমকি। সিসিটিভি-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের বিপজ্জনক স্থানে নতুন আরেকটি ব্যারিয়ার হ্রদের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে নতুন বিপর্যয় ঘটাতে পারে। এই সম্ভাব্য বিপদের প্রভাবে ইতোমধ্যেই ভোতিকোশি নদীর পানির উচ্চতা মারাত্মকভাবে বাড়তে শুরু করেছে।

 

নতুন হ্রদ ভেঙে পড়ার তীব্র ঝুঁকির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সুরক্ষার স্বার্থে তিব্বত ও নেপাল উভয় স্থানেই সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল। কিছু সময় বন্ধ থাকার পর নেপাল সরকার ফের তাদের অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তবে চীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টানা তিন দিন সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণের পর তিব্বত অংশে পুনরায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।

(সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে)

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর