দক্ষিণ ইরানে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র ও সংক্ষুব্ধ জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেনা অভিযান পরিচালনা ও হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিশেষ ভিডিও ভাষণে কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালিত এই বিধ্বংসী হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর স্পর্শকাতর অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা, উন্নত অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের বিশাল ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সেই সাথে মার্কিন বাহিনীর ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কমান্ডার এবং সাধারণ সৈন্য নিহত ও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
নিজের বক্তব্য ও রণকৌশল তুলে ধরে সুনির্দিষ্ট করে তিনি আরও জানান, আমেরিকানরা তাদের সম্পাদিত সব অপরাধের জন্য পুরোপুরিভাবে অনুশোচনা প্রকাশ না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে এই আক্রমণাত্মক ও জোরালো সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একই ভাষণে মার্কিন প্রশাসনকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে কর্নেল জোলফাগারি স্পষ্টভাবে বলেন, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর কোনো ধরনের অব্যাহত আক্রমণ বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরও ‘ভারী, ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক’ প্রতিক্রিয়া সামরিকভাবে প্রদর্শন করবে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কোনো প্রকার সহায়তা বা সামরিক সুবিধা প্রদানকারী যেকোনো দেশকে এই বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের জন্য মারাত্মক ও অনিবার্য পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
(সূত্র: আল জাজিরা)