ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি

সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯ : পুলিশ সদরদপ্তর


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:১৬ পিএম

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। একই সময়ে নিখোঁজ হওয়া এসব শিশুদের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ৮৭ শতাংশ। তবে এখনো ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ। ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।


পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি—মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে সেসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা, কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, সে তথ্য বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত না হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসনে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে পুরো বিষয়টি মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।


পুলিশ সদরদপ্তরের বিস্তারিত যাচাইয়ে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ৪৭৪টি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ ৪০৬ জন শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই বয়সভিত্তিক শ্রেণিতে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ৬৮ জন শিশুকে।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ১৫ হাজার ২৪৩টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়া এসব শিশু-কিশোরদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এই বয়সসীমার ১ হাজার ৯৭০ জন শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে এবং তাদের উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পুলিশ সদরদপ্তরের সমন্বিত তথ্যানুযায়ী, উল্লিখিত সময়সীমায় শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সফলভাবে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করেছে এবং ২ হাজার ৩৮ জন শিশু এখনো নিখোঁজ তালিকায় রয়েছে।


সংবাদ বার্তায় শিশু নিখোঁজ হওয়ার নানা কারণ বিশ্লেষণ করেছে পুলিশ। পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী ছোট শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো নতুন বা অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে আলাদা হয়ে যায়। এছাড়া নিজেদের নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সঠিকভাবে বলতে না পারা কিংবা একা বাসায় ফেরার সময় পথ হারিয়ে ভুল স্থানে চলে যাওয়ার কারণেই প্রধানত এরা নিখোঁজ হয়।


অপরদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিখোঁজের ক্ষেত্রে ভিন্ন সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ দেখতে পেয়েছে পুলিশ। এই বয়সের শিশু-কিশোরদের নিখোঁজ বা ঘর ছাড়ার পেছনে পারিবারিক অভিমান, অতিরিক্ত পড়ালেখার চাপ, কিংবা অনৈতিক বা অপসংস্কৃতিমূলক কোনো কাজে জড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সামাজিক ও পারিবারিক লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীন ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে জীবনযাপনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে কৌশল করে অর্থ বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা, তীব্র পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের নেতিবাচক প্রভাব ও প্ররোচনা সহ নানা কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।


পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আরও জানিয়েছে যে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশি সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণের অংশ হিসেবে সারাদেশে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু করা হয়েছে। ঘরে বসেই দ্রুত আইনি তথ্য নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।


পুলিশের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে সারা দেশে নিখোঁজ সংক্রান্ত মোট সাধারণ ডায়েরি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে নিখোঁজের ঘটনায় জিডি নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪টি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে। অনলাইন ব্যবস্থার প্রসারের কারণে মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়ে আইনি সহায়তা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।


এ সম্পর্কিত আরো খবর