ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

ভারতের ‘বনতারা’য় মিলল গাজীপুরের চুরি হওয়া লেমুর? পরিচয় নিশ্চিতে ডিএনএ পরীক্ষা


  • আপলোড সময় : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১২:৩৭ পিএম

গাজীপুরের সাফারি পার্ক থেকে রহস্যজনকভাবে চুরি হয়ে যাওয়া অতি দুর্লভ ও বিপন্ন প্রজাতির রিংটেইল লেমুর ভারতের গুজরাটে উদ্ধার হওয়া লেমুরের সঙ্গে অভিন্ন কি না, তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশের বন বিভাগ। চুরিকৃত লেমুরগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের অংশ হিসেবে পার্কে চিকিৎসাধীন ও সংরক্ষিত থাকা অন্য একটি লেমুরের শরীরের ডিএনএ নমুনা সফলভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত এই নমুনা রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য ঢাকার উন্নত ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে ভারতের গুজরাটে অবস্থিত আলোচিত ‘বনতারা’ বন্যপ্রাণী সেবা ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে থাকা সন্দেহভাজন লেমুর দুটির ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এটি মিলিয়ে চূড়ান্ত জেনেটিক পরিচয় শনাক্ত করা হবে।

 

সাফারি পার্কের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাচারকালে উদ্ধার হওয়া এক জোড়া রিংটেইল লেমুরকে গাজীপুর সাফারি পার্কে হস্তান্তরের পর সেখানে তারা নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রজননে অংশ নেয় এবং দুটি সুস্থ শাবকের জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে একটি লেমুর মারা গেলেও বাকিগুলো পার্কে বেশ ভালোভাবেই বেড়ে উঠছিল। তবে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পার্কের সুরক্ষিত বেষ্টনী থেকে অতর্কিতে তিনটি মূল্যবান লেমুর চুরি হয়ে যায়।

 

চুরির ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ তৎপরতায় একটি লেমুর দেশেই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি দুটি লেমুরের কোনো সন্ধান তাৎক্ষণিকভাবে মেলেনি। পরবর্তীতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দীর্ঘ ও নিবিড় অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্রের সদস্যরা রাতের আঁধারে সীমান্ত পার করে লেমুর দুটি ভারতে পাচার করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলো স্থান পায় ভারতের বিখ্যাত শিল্পপতি অনন্ত আম্বানির আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও সেবা কেন্দ্র ‘বনতারা’য়।

 

আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা এবং পাচার হওয়া বন্যপ্রাণী ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় চুরির আগে লেমুরগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষিত না থাকা। যার ফলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ভৌগোলিক ও আইনি মালিকানা দাবি করা বা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, একই বংশীয় ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে গাজীপুর সাফারি পার্কে বর্তমানে সংরক্ষিত থাকা অন্য লেমুরটির ডিএনএ প্রোফাইলই হতে পারে গুজরাটের লেমুর দুটির আসল পরিচয় প্রমাণের সবচেয়ে বড় ও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক দলিল। জেনেটিক স্যাম্পলিং ল্যাবে হুবহু মিলে গেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে যে ভারতের ‘বনতারা’য় থাকা লেমুর দুটিই গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া সেই অমূল্য সম্পদ।

 

এদিকে পরিবেশবিদ ও আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, কেবল লেমুরই নয়, দেশে থাকা অন্যান্য বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর নিয়মিত ডিজিটাল ও ডিএনএ প্রোফাইল ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, সময়মত ডিএনএ প্রোফাইলিং করা থাকলে সীমান্ত পেরিয়ে পাচার হয়ে যাওয়া প্রাণী শনাক্তকরণ এবং সেগুলোকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর হবে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর