ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ব্যবহৃত সরকারি পতাকাবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত এই দুই মামলায় মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ব্যস্ততম সার্কিট হাউস সড়কে বিমানমন্ত্রীর গাড়িটি ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করে ভুল লেনে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে গাড়িটি সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সেটিকে আটকে দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। আইনভঙ্গের দায়ে মামলা দুটি দায়ের করেন ট্রাফিক সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ।
ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে সার্জেন্ট সিফাত জানান, সকালে বিমানমন্ত্রীর গাড়িটি লেনের প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে যাতায়াত করায় সাধারণ যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। সড়কটিতে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে পতাকাবাহী গাড়িটি থামান। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই গাড়িটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ঘটনার সময় গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন আরিফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি। পুলিশ সূত্রে আরও নিশ্চিত হওয়া গেছে, আইন লঙ্ঘনের সময় গাড়ির ভেতরের আসনে স্বয়ং মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সকালে সার্কিট হাউস সড়কে ট্রাফিক নিয়ম ভেঙে গাড়িটি সচিবালয়ের অভিমুখে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি পরিলক্ষিত হওয়া মাত্রই পতাকাবাহী গাড়িটি থামিয়ে দেয় ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে গাড়িটির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ধারায় তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে সড়কে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির দায়ে এবং অপরটি অনিয়ন্ত্রিত বা অনিরাপদভাবে গাড়ি চালানোর অপরাধে।
মামলার প্রয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, যেকোনো আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে মামলাটি গাড়ির নির্দিষ্ট নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে নথিভুক্ত হলেও এর পূর্ণ দায়ভার চালকের ওপরই বর্তায়। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ধার্যকৃত সমুদয় জরিমানার অর্থ গাড়িটির চালককেই পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।