ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর বিষয়ে চরম সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:১৮ পিএম

আগামী মাসগুলোতে প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া ‘এল নিনো’ চরম ও ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ রূপ ধারণ করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কড়া সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। আবহাওয়াবিদদের ধারণা অনুযায়ী, এই বৈরী পরিস্থিতি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তীব্রভাবে স্থায়ী হতে পারে।


৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা থেকে জানানো হয়, চলতি ২০২৬ সালের শেষভাগে এল নিনো তার সর্বোচ্চ তীব্রতা ও ভয়াবহতায় পৌঁছাবে। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্ব জলবায়ুতে যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটবে তা ২০২৭ সাল পর্যন্ত একটানা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এই সুদীর্ঘ সময়ে বৈশ্বিক বৃষ্টিপাত ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেবে, যা বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও অতিমাত্রায় তাপপ্রবাহের মতো মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করবে।


মূলত এল নিনো হলো একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। এর প্রভাবে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় রেখায় অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিক স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক গুণ বেড়ে যায়। এর ফলে ভৌগোলিকভাবে পুরো বিশ্বজুড়ে বায়ুমণ্ডলের চাপ ও স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ধারায় ব্যাপক চরম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর জলবায়ুতে এল নিনোর পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং এটি ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। যদিও প্রক্রিয়াটি সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘটে না, তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এর ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পায়।


বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ ধরে আশঙ্কা করছেন যে, অবাধে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সমগ্র পৃথিবী ইতোমধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে উষ্ণ হয়ে উঠেছে। এর ওপর এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং সামগ্রিক আবহাওয়ার চরম দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিগুলোকে আরও তীব্র করে তুলবে।


উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, চোখের সামনেই এল নিনো ক্রমান্বয়ে আরও বৃহৎ ও শক্তিশালী আকার ধারণ করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অকল্পনীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সার্বিক তাপমাত্রা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার এক নিরন্তর প্রতিযোগিতা চলছে, যেখানে টিকে থাকতে হলে বিশ্ববাসীকে একযোগে জয়ী হতে হবে।


সাধারণত দেখা যায়, এল নিনো বছরের শেষভাগে এসে তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায় এবং সমুদ্রের অস্বাভাবিক অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ফলে এর ঠিক পরবর্তী বছর বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। আবহাওয়ার পূর্ব তথ্য ও রেকর্ড অনুযায়ী, সর্বশেষ এল নিনো প্রক্রিয়ার প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম উষ্ণতম বছর ছিল ২০২৪ সাল।


সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেন, শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মানব সমাজ, জনগোষ্ঠী এবং সার্বিক অর্থনীতিতে প্রচণ্ড বড় ধাক্কা দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে অনাবৃষ্টিজনিত খরা এবং আকস্মিক বন্যার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় দৃশ্যমান হয়েছে। এল নিনো যত বেশি শক্তিশালী হতে থাকবে, এর ক্ষতিকর প্রভাবও ঠিক তত গুণ বাড়বে।


সেলেস্তে সাউলো বিশেষ করে কৃষি, জনস্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও পানিসম্পদের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোর সুরক্ষায় এখনই অধিক সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন। তার মতে, বিশ্বজুড়ে সকল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে, কারণ এই সংকট মোকাবিলায় হাতে আর সময় নষ্টের কোনো সুযোগ নেই।


এ সম্পর্কিত আরো খবর