আসন্ন
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন কি না কিংবা
তিনি উপস্থিত না হলে অন্য
কেউ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না, সে
বিষয়ে ভারতের কাছে এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট
কোনো তথ্য নেই। গত শুক্রবার ভারতের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফিংকালে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই মন্তব্য করেন।
পাশাপাশি,
দেশে ফেরার বিষয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কি না—এমন
প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল জানান, এ বিষয়েও ভারতের
কাছে কোনো তথ্য নেই। এছাড়া সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়েও তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
চলতি
বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসের
সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার গঠন করার পরপরই বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারতের নরেন্দ্র মোদির সরকার। এর ধারাবাহিকতায় চলতি
সেপ্টেম্বর মাসে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তবে
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানকালে এক সংবাদ সম্মেলনে
বক্তব্য প্রদান করার পর ঢাকা তীব্র
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য এক অনুকূল কূটনৈতিক
পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেয় বাংলাদেশ সরকার। সফর চূড়ান্ত করার পূর্বে ঢাকার পক্ষ থেকে দুটি প্রধান শর্ত সামনে আনা হয়—প্রথমত, সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের অবিলম্বে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া।
এসব
রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও শর্তের আলোচনার
মধ্যেই গত মাসের মাঝামাঝি
সময়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয় যে, তারেক
রহমান ২২ ও ২৩
আগস্ট নয়া দিল্লি সফর করতে পারেন। দুই দেশের পক্ষ থেকেই এই সফর ঘিরে
নানা প্রস্তুতিমূলক খবরের গুঞ্জন ওঠে। তবে নির্ধারিত দিনক্ষণ পার হয়ে গেলেও তারেক রহমানের নয়া দিল্লি সফর নিয়ে পরবর্তীতে আর কোনো আনুষ্ঠানিক
সিদ্ধান্ত বা দিনক্ষণ ঘোষণা
করা হয়নি।
সম্প্রতি
ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে ভারতের
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও এই সফর প্রসঙ্গে
কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তার নিজের ওপরই নির্ভর করছে।
পরবর্তীতে
শুক্রবার নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে
পুনরায় প্রশ্ন ওঠে। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল জানান, আগামী ১২ ও ১৩
সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের চূড়ান্ত অংশগ্রহণের বিষয়ে এই মুহূর্তে সংবাদমাধ্যমকে
জানানোর মতো কোনো আপডেট তাদের কাছে নেই।