সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ১০ দিন পর নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গভীর টানেল থেকে এক চীনা নাগরিককে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নেপালের সেনাবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারীদের একটি সমন্বিত যৌথ দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
নেপালি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া ওই চীনা নাগরিকের নাম লুহাইতাও। তিনি নেপালের প্রখ্যাত ‘আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে’ প্রকৌশল সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত ছিলেন। আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও প্লাবনের পর পানির তীব্র স্রোতে তিনি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গভীর সুড়ঙ্গ বা টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে যান।
সেনাবাহিনীর সূত্রমতে, নেপালি সেনা সদস্য ও বিশেষজ্ঞ টিম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার গভীর অন্ধকার এলাকা থেকে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। উদ্ধার কাজের পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বর্তমানে তার সার্বিক শারীরিক অবস্থা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওই প্রকল্পের আশপাশের এলাকাগুলোতে সম্ভাব্য অন্য কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি বা শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দেশটির ঐতিহ্যবাহী ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত ওই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত অন্য একটি টানেল থেকে ভয়াবহ ভূমিধসের ৯ দিন পর দুই স্থানীয় শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মূলত সুড়ঙ্গের দূর থেকে উদ্ধারকারীরা মানুষের ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শুনতে পেলে সেখানে দ্রুত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন। উদ্ধার হওয়া ওই দুজন হলেন প্রকল্পটির যান্ত্রিক ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং যান্ত্রিক সুপারভাইজার কবির মহার্জন। নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠের দপ্তর থেকে এক সরকারি বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।