ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

মিয়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৫


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৩৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী শহর মিয়ামিতে বহুজাতিক প্রযুক্তি ও ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন।

 

মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া কার্গো উড়োজাহাজটির মূল মালিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান 'অ্যামাজন প্রাইম এয়ার'। মিয়ামি বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে অবতরণের সময় বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে কার্গো উড়োজাজটি হঠাৎ ছিটকে সরে যায়। এরপর সেটি দ্রুত বেগে রানওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি যানবাহনে সরাসরি আঘাত করে। আঘাত লাগার সঙ্গে সঙ্গেই কার্গো বিমানটিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়।

 

মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নি-নির্বাপন বা ফায়ার বিভাগের প্রধান রায়ে জাদাল্লাহ উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিমান দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহতের পাশাপাশি আরও অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৩ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

 

রায়ে জাদাল্লাহ বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে আরও বলেন, রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই বিশাল উড়োজাহাজটিতে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য বিমানবন্দরের ফায়ার বিভাগ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় ৬০টি বিশেষ ইউনিটের প্রায় ৬০০ জন অভিজ্ঞ উদ্ধারকর্মী তৎক্ষণাৎ মোতায়েন করা হয়েছিল। তারা টানা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

 

ব্যস্ততম মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য মোট ৪টি রানওয়ে রয়েছে। দুপুরের দিকে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটার পরপরই সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বিমানবন্দরে স্বাভাবিক বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে উদ্ধারকাজ কিছুটা এগিয়ে নেওয়ার পর এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হলে সন্ধ্যার দিকে আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয় সেই স্থগিতাদেশ। এরপর ৪টির মধ্যে কেবল দু’টি রানওয়ে বিমান চলাচলের জন্য পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা 'ফ্লাইটরাডার২৪' দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ল্যান্ডিংয়ের সময় বিধ্বস্ত হওয়া অ্যামাজনের এই কার্গো উড়োজাহাজটি ছিল মূলত একটি ৩২ বছর আগে তৈরি প্রবীণ বোয়িং বিমান। ক্যারিবীয় অঞ্চলের মার্কিন প্রদেশ পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান শহরের বিমানবন্দর থেকে পণ্য সামগ্রী নিয়ে মিয়ামির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল উড়োজাহাজটি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মিয়ামিতে অবতরণকালেই এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে।

 

তবে ঠিক কী কারণে উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে এভাবে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হলো— তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। রোববারের সংবাদ সম্মেলনে মিয়ামি বিমানবন্দরের ফায়ার প্রধান রায়ে জাদাল্লাহ যদিও উল্লেখ করেছেন যে, আগুন নেভানোর চরম মুহূর্তে তারা উড়োজাহাজটির প্রধান জ্বালানির ট্যাংকে বড় ধরনের ফুটো বা ছিদ্র দেখতে পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই কারিগরি ত্রুটির কারণেই প্রকৃতপক্ষে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে কি-না— সে বিষয়টি এখনই স্পষ্ট করেননি তিনি।

 

উক্ত দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে সড়ক, নৌ ও বিমানপথে যাতায়াতের সামগ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বিষয়ক মার্কিন সরকারি সংস্থা 'ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড' (এনটিএসবি) দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই এনটিএসবির চেয়ারপারসন জেনিফার হোমেন্ডিকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা খুব শীঘ্রই দুর্ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু করবেন।

 

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে রোববার অ্যামাজন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিল সংবাদসংস্থা রয়টার্স। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, তারা দুর্ঘটনার স্থান থেকে ঘটনার বিস্তারিত ও সব ধরনের খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যস্ত আছেন।

 

রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কেলি ন্যান্টেল বলেন, "মিয়ামিতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আমরা গভীর শোক ও মর্মাহত। দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহতদের পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি আমরা আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। ঠিক কী ঘটেছিল এবং কীভাবে এই ভয়াবহ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটল— এসব খুঁটিনাটি তথ্য বিস্তারিত জানতে আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি।"

(সূত্র: রয়টার্স)


এ সম্পর্কিত আরো খবর