আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ঐতিহাসিক ও নিরঙ্কুশ জয়ের পথে রয়েছে। বুথফেরত জরিপ ও প্রায় সম্পূর্ণ ভোট গণনার তথ্যানুযায়ী, দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে কট্টর ডানপন্থী দলের এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এএফডি এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে। তবে তাদের বিশাল বিজয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলসহ পুরো জার্মানির শাসনব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে।
রোববার রাতে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর স্যাক্সনি-আনহাল্টের রাজধানী ম্যাগডেবুর্গের আল্টেস থিয়েটারে এএফডির প্রধান কার্যালয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে উপস্থিত হয়ে এএফডি নেতা বিয়র্ন হ্যোকে দিনটিকে একটি "যুগসন্ধিক্ষণ" হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, স্যাক্সনি-আনহাল্টের জনগণ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে পুরোপুরি প্রত্যাখান করেছে।
রাজ্যে এএফডির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ও প্রচারণা প্রধান উলরিশ সিগমুন্ড (৩৫) এই জয়কে "ঐতিহাসিক" বলে আখ্যা দেন। সিগমুন্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলাকালে মূলধারার অন্য দলগুলোর কয়েকজন আইনপ্রণেতা গোপন ভোটে তাঁকে সমর্থন দিতে পারেন।
অপরদিকে, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) মাত্র ১৭.১ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে, যা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিপর্যয়কর ফলাফল। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এসপিডি) পেয়েছে মাত্র ৯.৩ শতাংশ ভোট।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির উচ্চমূল্য, লাগামহীন অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এএফডি নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। অভিবাসন বন্ধ ও জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা নিয়ে দলটি ব্যাপক গণসংযোগ পরিচালনা করে।