ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

আমিরাতের প্রেসিডেন্টের গোপন সতর্কবার্তা চেপে যান নেতানিয়াহু


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৫:৫৬ পিএম

প্রায় তিন বছর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমানায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের রক্তক্ষয়ী ও নজিরবিহীন অভিযানের পূর্ববার্তা পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তৎকালীন সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ মহল থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই সতর্কবার্তা তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই ভয়াবহ বিপর্যয় প্রতিহতে নেতানিয়াহু নিজের দেশের নিরাপত্তা প্রধান কিংবা সামরিক বাহিনীকে কোনো তথ্যই জানাননি। মঙ্গলবার ইসরায়েলের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই অভূতপূর্ব দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই নির্বাচনের মুখে থাকা দেশটিতে রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা নেতানিয়াহুকে ব্যর্থতার দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগের তীব্র আহ্বান জানিয়েছেন।


আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে হারেৎজ পত্রিকা এই বিষোদ্গারমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করল। তবে সংবাদ প্রতিবেদনটির তীব্র বিরোধিতা করে বার্তাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে হারেৎজকে বামঘেঁষা পত্রিকা হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, ওই সংকটময় মুহূর্তে আমিরাতের শীর্ষ নেতার সঙ্গে নেতানিয়াহুর আলোচনার বিষয়টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা।


মূলত ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ ঘটনা ও এর পেছনের গোপন প্রেক্ষাপট নিয়ে হারেৎজের একদল জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শিগগিরই একটি অনুসন্ধানী বই প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। ওই বইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ নিয়ে মঙ্গলবার বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলার আনুমানিক দেড় সপ্তাহ আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সরাসরি ফোন করে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানান যে, গাজার হামাস একটি বিশাল ও অকল্পনীয় সামরিক অভিযান পরিচালনা করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।


প্রতিবেদনে আরও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে যে, তৎকালীন হামাস প্রধান শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ফিলিস্তিনের এক সাবেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, হামাসের সশস্ত্র যোদ্ধারা এক নজিরবিহীন ও ভয়ংকর অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা পুরো অঞ্চলে একটি প্রাকৃতিক ‘ভূমিকম্পের’ মতো প্রকম্পিত পরিস্থিতি তৈরি করবে। পরবর্তীতে ওই ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক কর্মকর্তা পুরো তথ্যটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক শীর্ষ উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। সেই বার্তাটি বিলম্ব না করে সরাসরি আমিরাতের রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং তিনি স্বউদ্যোগে নেতানিয়াহুকে টেলিফোন করে সতর্ক করেন। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেও নেতানিয়াহু প্রশাসনিকভাবে সম্পূর্ণ উদাসীন ও অদ্ভুত শান্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন বলে লিখেছে হারেৎজ।


সংবাদমাধ্যমে এই গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক প্রার্থীরা তাঁর ওপর তীব্র আক্রমণ শুরু করেছেন। সাবেক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার গাদি আইজেনকট নেতানিয়াহুর চরম নিরাপত্তা ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, নেতানিয়াহুকে বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন, তাই তিনি দেশ পরিচালনার পদটির জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ প্রাণহানি ও রক্তপাতের জন্য নেতানিয়াহু স্বয়ং ব্যক্তিগতভাবে এবং সরাসরি দায়ী, তাই এক মিনিটের জন্যও তাঁর আর পদে থাকার নীতিগত অধিকার নেই।


উল্লেখ্য, হামাসের সেই আকস্মিক হামলায় ১ হাজার ২২১ জন প্রাণ হারান এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে এর প্রতিশোধে গাজায় ইসরায়েলের টানা ও নৃশংস সামরিক অভিযানে উপত্যকাটি বর্তমানে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৬৫৮ জন নিরীহ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর