ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে রিফর্ম ইউকের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৩৫ এএম

বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে দলটি কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল রিফর্ম ইউকের বিরুদ্ধে নতুন করে যে তদন্ত শুরু করেছে, সেটি দলটির অন্যান্য অনুদান নিয়ে আগে থেকেই চলমান একটি তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলটির অর্থায়ন এবং বিদেশি উৎস থেকে অর্থ গ্রহণের বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পর তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

সম্প্রতি চ্যানেল ফোর নিউজ ও ভারবেটিম ইনভেস্টিগেশনসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। গত সপ্তাহে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনে একজন ছদ্মবেশী সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে রিফর্ম ইউকের দুই জ্যেষ্ঠ সহযোগীকে বিদেশি উৎস থেকে রাজনৈতিক দলের জন্য অনুদান সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্বাচনী আইন এড়িয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই সম্প্রচারিত প্রতিবেদনের পর রিফর্ম ইউকের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্তের বিষয়টি সামনে আসে। দলের একজন মুখপাত্র জানান, রিফর্ম ইউকে কোনো ধরনের অন্যায় বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীদের সঙ্গে দলটি পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

রিফর্ম ইউকের মুখপাত্র আরও বলেন, তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে দলটি আর কোনো মন্তব্য করবে না। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, একটি রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে অনুদান ও জনমত জরিপসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তাধীন সব অভিযোগই ২০০০ সালের রাজনৈতিক দল, নির্বাচন ও গণভোট আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে যে ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। ওই ফুটেজে রিফর্ম ইউকের দুই জ্যেষ্ঠ সহযোগীর কথোপকথন ধারণ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে বিতর্কের মধ্যে রিফর্ম ইউকের গুরুত্বপূর্ণ দুই কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন দলটির নেতা নাইজেল ফ্যারাজের চিফ অব স্টাফ ড্যান জুকস এবং নীতিবিষয়ক প্রধান জেমস অর। দলটির নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এই দুই ব্যক্তির পদত্যাগ তদন্তকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে।

ড্যান জুকস অবশ্য তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিজের নাম ও ভাবমূর্তি পরিষ্কার করার সুযোগ তৈরি করতে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

রিফর্ম ইউকে যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে দ্রুত আলোচনায় আসা একটি রাজনৈতিক দল। দলটির নেতা নাইজেল ফ্যারাজ। অভিবাসন, অর্থনীতি এবং যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে দলটির অবস্থান দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি করেছে। নির্বাচনী রাজনীতিতে দলটির প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর অর্থায়ন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও বিভিন্ন সময়ে পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছে।

বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে অভিযোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনী অর্থায়ন কঠোর আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়। রাজনৈতিক দল, নির্বাচন ও গণভোটসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী কোনো অর্থ বা অনুদানের উৎস এবং তা গ্রহণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে।

তবে পুলিশের বর্তমান তদন্তের পর্যায়ে রিফর্ম ইউকে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইন ভঙ্গ করেছেন—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তদন্তের উদ্দেশ্য হলো অভিযোগগুলোর সত্যতা, অনুদানের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।

এদিকে ছদ্মবেশী সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিওকে ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটির সত্যতা ও প্রেক্ষাপটও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে ফুটেজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি থেকে বোঝা যাচ্ছে, সম্প্রচারিত উপাদান তদন্তে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হলেও চলমান তদন্তের কারণে বিস্তারিত মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। একই সময়ে ড্যান জুকস ও জেমস অরের পদত্যাগ দলের ওপর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর