ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

সৌদিতে হুতিদের হামলা, 'মক্কা চুক্তি' সক্রিয় করার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৩২ এএম

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা সৌদি আরব পর্যন্ত বিস্তার লাভ করলে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কার্যকর করা হতে পারে বলে মারাত্মক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহর ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতিরা ভয়াবহ হামলা চালায়। এতে অন্তত ৭০ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি তেল কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। এই ভয়াবহ ঘটনার পরেই পাকিস্তানের দিক থেকে এমন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এল।

 

মঙ্গলবার রাতে জিও নিউজের জনপ্রিয় আলোচনা অনুষ্ঠান ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’-এ দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, ইয়েমেনের চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ছড়িয়ে পড়া প্রভাব যদি সৌদি আরবে পৌঁছায়, তবে সামরিক চুক্তি অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে যৌথভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চলতি বছরের ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত হলো যেকোনো এক সদস্য দেশের বিরুদ্ধে বহিরাগত আগ্রাসন ঘটলে তা তিন দেশের ওপর সম্মিলিত হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

 

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, চুক্তির বিধান অনুযায়ী পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রয়োজন দেখা দিলে পাকিস্তান নিঃসংকোচে সেই চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই মক্কা চুক্তি কোনো আক্রমণাত্মক জোট নয়, বরং বিশুদ্ধ প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে। হুতিদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে হুতিরা যদি তাদের নিজেদের গৃহযুদ্ধ প্রতিবেশী দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে এই সামরিক জোটের যৌথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আইনি ধারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠবে।

 

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে খাজা আসিফ জানান, ২০১৪ সালে যখন ইয়েমেন সংকট প্রথম শুরু হয়, তখন তিনি নিজে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেশটি সফর করেছিলেন। সেই সময়ও পাকিস্তান সৌদির পাশে দাঁড়িয়েছিল। সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং দেশটির পবিত্র ভূখণ্ডের নিরাপত্তার প্রশ্ন আসলে পাকিস্তান যেকোনো সংকটের মুহূর্তে তাদের পাশে থাকবে।

 

একই সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন নিয়ে কথা বলেন খাজা আসিফ। তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার পরমাণু ও যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে থাকলেও সব কূটনৈতিক পথ এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। পাশাপাশি ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের ক্ষমতার লোভ চরিতার্থ করতে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন। তবে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও লাতিন আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে তিনি মনে করেন।

 

উল্লেখযোগ্য যে, গত মঙ্গলবার হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের আভা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জোরালো হামলা চালায়। তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আরামকোর তেল স্থাপনাগুলো। এই হামলার জবাবে সৌদি সামরিক বাহিনীও ইয়েমেনের তাইজ, মারিব ও সানা এলাকায় পাল্টা বিমান হামলা চালায়। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা বিবৃতিতে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সংহতির বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। সূত্র: ডন নিউজ ও জিও নিউজ



এ সম্পর্কিত আরো খবর