ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক এখন যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:৪৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক দেশে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে টেক্সাসের ডালাসে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ দাবি করেন। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন মজুদের অংশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলাকে বাদ দিয়েও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক। তার ভাষায়, ভেনেজুয়েলাকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের তেলসম্পদের ‘মজুদের’ সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। দেশটির বিপুল প্রমাণিত তেলসম্পদের কারণে এ চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার আনুমানিক ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জ্বালানি চুক্তি হয়েছে। তিনি এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে তার বক্তব্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

 

হোয়াইট হাউস পরে চুক্তিটির বিভিন্ন দিক প্রকাশ করে। চুক্তির আওতায় নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স বা এনএবিইপি তাদের মূল করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ৩৫ শতাংশ মালিকানা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কৌশলগত মূলধন কার্যালয়কে বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার অধিকারও পাবে। অর্থাৎ নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনের একটি অংশ সরাসরি সংগ্রহ করতে পারবে।

 

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এনএবিইপি ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্রের ওপর ১০০ বছরের জন্য উৎপাদন ও পরিচালনার অধিকার বা কনসেশন পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এর আগে একই চুক্তিকে ২৫ বছরের চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

 

চুক্তির মেয়াদ নিয়ে এই ভিন্ন বক্তব্যের ফলে এর প্রকৃত কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের হিসাবে, চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার প্রথম ২৫ বছরে ভেনেজুয়েলার জন্য প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার রয়্যালটি ও কর রাজস্ব তৈরি করতে পারে।

 

এই অর্থ ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। অর্থাৎ দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও অবকাঠামোগত ক্ষতি কাটিয়ে দেশটির পুনর্গঠনে এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ডালাসের সমাবেশে ট্রাম্প চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদের সঙ্গে নতুন চুক্তি—দুই বিষয়কেই তিনি নিজের প্রশাসনের জ্বালানি নীতির সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করেন।

 

তবে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ে চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে ১০০ বছরের কনসেশন এবং ২৫ বছরের চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের পার্থক্য ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


এ সম্পর্কিত আরো খবর