ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ৫ লাখ রুশ নিহত: যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান


  • আপলোড সময় : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:০৯ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ তথ্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সামনে এনেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রুশ শিবিরের প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক নিহতদের তালিকায় সামরিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক নাগরিকরাও রয়েছেন। কেবল প্রাণহানিই নয়, এই সংঘাতময় দীর্ঘ সময়ে রাশিয়ার আরও প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ও সামরিক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

 

গতকাল শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রিচ নাইটন এই গোয়েন্দা তথ্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়া পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষের বহু ক্ষয়ক্ষতি হলেও রাশিয়ার ক্ষেত্রে মানবসম্পদের এই অপচয় অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুদ্ধে নিহত ও আহতদের সিংহভাগই রাশিয়ার নিয়মিত সামরিক বাহিনী, রিজার্ভ ফোর্স এবং চুক্তিভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য।

 

যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রিচ নাইটন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সাড়ে চার বছরের যুদ্ধে এই প্রাণহানির ঘটনার একটি বড় অংশ বা সিংহভাগই সংঘটিত হয়েছে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পরবর্তী সময়গুলোতে। অর্থাৎ যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কার চেয়েও পরবর্তী দীর্ঘায়িত সংঘাত ও ফ্রন্টলাইনের সম্মুখ লড়াইয়ে রুশ বাহিনীকে অনেক বেশি খেসারত দিতে হয়েছে।

 

ভিডিওবার্তায় তিনি এই বিপুল ক্ষতির বিপরীতে রাশিয়ার সামরিক অর্জনের আসল চিত্রও প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাড়ে চার বছরে প্রায় ৫ লাখ মানুষের জীবন এবং ১৫ লাখ মানুষের আহত হওয়ার বিনিময়ে ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ২ শতাংশ এলাকা নতুন করে দখল করতে সক্ষম হয়েছে রাশিয়া। সামান্য কিছু ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে শত শত মানুষের রক্ত ঝরানো এবং এত বিশাল পরিমাণ সামরিক সম্পদের ধ্বংসকে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকেরা ক্রেমলিনের যুদ্ধ কৌশলের এক চরম ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।

 

ব্রিটেনের সেনাপ্রধান অত্যন্ত কড়া ভাষায় রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও নীতিকে অভিযুক্ত করে বলেন, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক অন্যায্য ও অনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য কীভাবে অকাতরে এবং অর্থহীনভাবে মানুষের মূল্যবান জীবন অপচয় করা হচ্ছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে সাধারণ রুশ নাগরিকদের বলির পাঠা বানানো হচ্ছে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর পর থেকে পশ্চিমের মিত্র দেশগুলো প্রতিনিয়ত ইউক্রেনকে অস্ত্র, অর্থনৈতিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে। এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান মিত্র হিসেবে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ প্রদান ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সেই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্যের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা যুদ্ধের সার্বিক গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করল।

 

তবে যুক্তরাজ্যের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এই প্রতিবেদনের পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। সাধারণত রাশিয়া নিজেদের সামরিক হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান জনসম্মুখে প্রকাশ করে না এবং পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া হিসাবকে প্রত্যাখ্যান করে থাকে। তা সত্ত্বেও ব্রিটিশ সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর