ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

নাইন-ইলেভেনের ২৫ বছর: এক মঞ্চে ট্রাম্প ও ৪ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট


  • আপলোড সময় : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৪৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলা ‘নাইন-ইলেভেনের’ ২৫তম বার্ষিকী অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে পালিত হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক অপহৃত চারটি যাত্রীবাহী বিমান ব্যবহার করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে ইতিহাসের নজিরবিহীন এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। সেই ভয়াবহ হামলায় অকালে প্রাণ হারানো প্রায় তিন হাজার নিরপরাধ মানুষকে গভীর শ্রদ্ধা, ক্ষোভ ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করেছে পুরো আমেরিকা এবং বৈশ্বিক সম্প্রদায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় নিহতদের স্মরণে দিনটিতে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্মারক ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

পেন্টাগনে আয়োজিত মূল স্মারক কর্মসূচির সার্বিক নেতৃত্ব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ‘গ্রাউন্ড জিরোতে’ আয়োজিত প্রধান শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার সাবেক প্রেসিডেন্ট—জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেন। বৈরী রাজনৈতিক অবস্থান ভুলে ২৫ বছরের এই ঐতিহাসিক বার্ষিকীতে এক মঞ্চে চার সাবেক প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিতে এক বিশেষ তাৎপর্য দান করে।

 

পেন্টাগনের বিশেষ অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রদানকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০০১ সালের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপট স্মরণ করার পাশাপাশি আমেরিকার বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান নীতির মেলবন্ধন ঘটান। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “পঁচিশ বছর আগে যাদের স্মরণে আমরা আত্মত্যাগের শপথ নিয়েছিলাম, আজ আমরা সেই জাতীয় সংকল্পকে পুনরায় স্পর্শ করছি। আমরা এই ভয়াবহ আঘাতের কথা কোনোদিন, কোনো অবস্থায় ভুলবো না। আর সেই নীতি ও চেতনার কারণেই আমেরিকান জাতি আজও বিশ্বজুড়ে নিজেদের সুরক্ষায় দৃঢ়তার সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।” এ সময় আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে জানান যে, সন্ত্রাসী ভাবধারায় পরিচালিত কোনো রাষ্ট্র বা শক্তিকে প্রতিহত করা যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এবং তারা কোনো অবস্থাতেই মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেবেন না।

 

স্মরণসভার মূল আনুষ্ঠানিকতায় প্রতি বছর বিমানগুলোর আঘাত হানা এবং টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার মর্মান্তিক মুহূর্তগুলোকে চিহ্নিত করে ছয়টি ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টার ধ্বনি বাজানো হয় এবং নীরবতা পালন করা হয়। তবে ২৫তম এই বিশেষ বার্ষিকীতে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয় একটি ঐতিহাসিক সপ্তম ঘণ্টার ধ্বনি। এই সপ্তম ঘণ্টার ধ্বনিটি বাজানো হয়েছে হামলা-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে তৈরি হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়া, ক্ষতিকর ধুলাবালি ও ক্যানসারসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পরবর্তী সময়ে মারা যাওয়া হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্মরণে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় সরাসরি হতাহতের চেয়ে গত ২৫ বছরে বিষাক্ত পরিবেশজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি মানুষ মারা গেছেন, যা এই ট্র্যাজেডির দীর্ঘমেয়াদী ও করুণ রূপ তুলে ধরে।

 

এদিকে ম্যানহাটনের গ্রাউন্ড জিরোতে নিহতদের নাম ধরে ধরে উচ্চারণের সময় এক অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে হামলায় নিহত টম স্ট্রাডার স্ত্রী এবং ‘৯/১১ ফ্যামিলিস ইউনাইটেড’-এর প্রধান তেরি স্ট্রাডা এই ঘটনায় যুক্ত দোষীদের পূর্ণাঙ্গ বিচারে মার্কিন সরকারের গাফিলতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে প্রকাশ করেন যে, ঘটনার পঁচিশ বছর পার হয়ে গেলেও তার স্বামীর হত্যাকাণ্ডসহ পুরো হামলায় প্রধান ভূমিকা পালনকারী রাষ্ট্র সৌদি আরবের সঠিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ বিমান হামলায় অংশ নেওয়া ১৯ জন হাইজ্যাকারের অধিকাংশ সদস্যই ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মূল কর্মসূচির পাশাপাশি পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে এবং প্রতিবেশী দেশ কানাডার গান্ডারেও নানা শ্রদ্ধাপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়। শুধু উত্তর আমেরিকাতেই নয়, বিশ্বজুড়ে এর বিশেষ সাড়া দেখা গেছে। ইতালির মিলান শহরে টুইন টাওয়ারের ১১০টি তলার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানকার অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা বিশেষ পোশাকে একটি ১১০ তলা ভবন বেয়ে উঠার প্রতীকী ‘স্টেয়ার ক্লাইম্ব’ শ্রদ্ধাঞ্জলি সম্পন্ন করেন।

তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC)।


এ সম্পর্কিত আরো খবর