ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে আয়োজক দেশের ভূরাজনৈতিক ভূমিকা ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে ইরান। একই সাথে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ডলারে বাণিজ্য করার বাধ্যবাধকতা থেকে বের হয়ে সদস্য দেশগুলোর নিজেদের জাতীয় মুদ্রায় পারস্পরিক বাণিজ্য জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে দেশটি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের ফাঁকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি ব্রিকসের সভাপতি হিসেবে ভারতের যোগ্যতার প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরান ভারতকে একটি উদীয়মান বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে, যেটি বর্তমানে ব্রিকসের সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করছে। ব্রিকস বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী সংস্থায় পরিণত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, ভারত এই শীর্ষ সম্মেলন এবং সদস্য দেশগুলোকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। বাণিজ্য থেকে ডলারের প্রভাব কমানো বা ‘ডি-ডলারাইজেশন’ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ব্রিকসের ভেতরে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ থাকলেও সব সদস্য দেশই নিজেদের জাতীয় মুদ্রাকে শক্তিশালী করার এবং পারস্পরিক বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার নীতিতে বিশ্বাস করে। তবে সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি একক যৌথ বাণিজ্যিক মুদ্রা চালুর বিষয়টি এখনো পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, অর্থমন্ত্রী সৈয়দ আলী মাদানিজাদে এবং ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফসহ উচ্চপর্যায়ের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল বর্তমানে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতীয় ধর্মীয় নেতা, চিন্তাবিদ ও ব্যবসায়ীদের এক সমাবেশে ভাষণ দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বৈরী আচরণের তীব্র সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কোনো অন্যায় বা জুলুমের কাছে মাথা নত করবে না। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই আমেরিকা ইরানি সমাজে বিভেদ সৃষ্টি ও নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে স্বাধীনভাবে জনগণের সেবা করা না যায়। কিন্তু সমস্ত সংঘাতের ঊর্ধ্বে উঠে মানব মর্যাদা, সমতা এবং বৈশ্বিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে স্বকীয়তা বজায় রাখবে ইরান।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন ইরানের প্রেসিডেন্ট। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-ইরান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানাদিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিকূল বিশ্ব পরিস্থিতি সত্ত্বেও ব্রিকস সম্পর্কিত সব বৈঠকে ইরানের নিয়মিত ও উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একই সাথে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন ও টেকসই সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে ব্রিকসের অপরিসীম সম্ভাবনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। (সংবাদ সূত্র: রয়টার্স ও এএনআই)