ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

ব্রিকস সম্মেলনের মাঝেই হতে পারে মোদী-শি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, আশাবাদী বেইজিং


  • আপলোড সময় : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৫২ এএম

ভারতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ঐতিহাসিক মঞ্চে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মধ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো প্রস্তুতি চলছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভূরাজনীতিতে প্রভাবশালী এই দুই প্রতিবেশী পরাশক্তির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সম্ভাব্য মুখোমুখি আলোচনার বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জু ফেহং। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই সম্ভাব্য বৈঠকের খবরটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

পরিকল্পিত এই হাইভোল্টেজ বৈঠকটি যদি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়, তবে তা হবে গত তিন বছরের মধ্যে টানা তৃতীয়বারের মতো দুই এশীয় রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত কোনো দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ। এর আগে রাশিয়ার কাজান এবং চীনের তিয়েনজিন শহরে আয়োজিত পৃথক বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় চীনা রাষ্ট্রদূত জু ফেহং জানান যে, বেইজিং নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে এবং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের দেওয়া কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও লেখেন, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনা, কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধি, সীমানা সংক্রান্ত মতপার্থক্য নিরসন এবং একে অপরের সফলতায় অংশীদার হয়ে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখতে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে চীন।

 

ইতোমধ্যে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সশরীরে অংশগ্রহণ করছেন। ২০১৯ সালে ভারতের তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ভারত-চীন অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনের পর চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের এটিই প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালের সীমান্ত সংকট বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) কেন্দ্রিক ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যকার টানাপোড়েন ও উত্তেজনা প্রশমন করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এই সফর এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটিকে বিশ্ব কূটনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে চীনা প্রভাবশালী দৈনিক ‘গ্লোবাল টাইমস’-এ প্রকাশিত এক কলামে চীনে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী দুই এশীয় শক্তির মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকে কাজে লাগানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। সেই কলামে দোরাইস্বামী গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দেওয়া প্রেসিডেন্ট শি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য স্মরণ করিয়ে দেন। সেখানে শি চিনপিং বলেছিলেন— ‘চীন ও ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগিতার অংশীদার এবং দেশ দুটি একে অপরের জন্য হুমকি না হয়ে বরং পারস্পরিক উন্নয়নের বড় সুযোগ।’ রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভারত-চীন সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর বিসকেকে অনুষ্ঠিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনেও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট শি করমর্দন ও সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় মিলিত হন, যেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারত ২০২৬ সালে ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ’ শীর্ষক মূলভাব নিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করছে, যেখানে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। (সংবাদ সূত্র: রয়টার্স, এএনআই ও গ্লোবাল টাইমস)


এ সম্পর্কিত আরো খবর