আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর বৈশ্বিক জোট হিসেবে পরিচিত ব্রিকসের সদস্য হতে ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিল পাকিস্তান। তবে আবেদন করার পর টানা তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জোটটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি দেশটি। আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের তীব্র আপত্তি ও বিরোধিতাই পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পথে প্রধান এবং সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি পরবর্তীতে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্ত হয়ে জোটটি বর্তমানে ‘ব্রিকস প্লাস’-এ পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানসহ আরও ২৯টি দেশ এই জোটের সদস্যপদ পেতে অপেক্ষমাণ রয়েছে। তবে সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে জোটের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের কঠোর নিয়মই পাকিস্তানের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, কারণ যেকোনো নতুন দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে সব পুরোনো দেশের সম্মতি থাকা বাধ্যতামূলক।
পাকিস্তান বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী বর্তমান জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এই মন্দা পরিস্থিতিতে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রত্যাশায় ব্রিকসের সদস্য হতে মরিয়া ইসলামাবাদ। জাপানের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘নিক্কেই এশিয়া’-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে পাকিস্তান ইতোমধ্যেই ব্রিকস-সমর্থিত ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’-এ প্রায় ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারত্ব কিনেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের তৎকালীন মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আবেদনের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্রিকসে পাকিস্তানের যোগদান অত্যন্ত ভূমিকা রাখবে।
ব্রিকসের সদস্যপদ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সদস্য দেশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। রাশিয়ায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে জানান, তারা সদস্য দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিশেষভাবে মস্কোর সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তান জোটের প্রভাবশালী দুই সদস্য রাশিয়া ও চীনের জোরালো সমর্থন পেতে সক্ষম হলেও ভারতের ভেটো এবং আপত্তির কারণে সেই সমর্থন বাস্তবে রূপ নিতে পারছে না। নিয়ম অনুযায়ী ভারত একা আপত্তি বজায় রাখলেই পাকিস্তানের সদস্যপদ স্থগিত থাকবে।
এদিকে সম্প্রসারিত ব্রিকস বর্তমান বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপির ভিত্তিতে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। জোট সম্প্রসারণের সাথে সাথে এই দেশগুলোর সাথে ভারতের নিজস্ব বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও জোরদার হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর কাছে ভারতের বার্ষিক রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার থেকে ৯ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুত্থান ও আন্তর্জাতিক মণ্ডলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পাকিস্তানের জন্য ব্রিকস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নতুন দিল্লির অটল অবস্থান ও জোটের অভ্যন্তরীণ নিয়মের কারণে обслуживания সেই চেষ্টা এখনো দুয়ারেই আটকে রয়েছে। (সংবাদ সূত্র: নিক্কেই এশিয়া, তাস ও এনডিটিভি)