ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের ছোড়া কাঁদুনে গ্যাসের (টিয়ার গ্যাস) প্রভাবে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তীব্র শ্বাসকষ্ট ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাওয়া ৫৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির পরিবার পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। নিহতের নাম ক্রিস্টোফ এম.। তিনি গত ১৭ অক্টোবর প্যারিসের দশম অ্যারোন্ডিসমেন্টে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ফরাসি গণমাধ্যম বিএফএমটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মৃত্যুর ঘটনায় একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার তীব্র কার্ডিওরেসপিরেটরি ফেইলিউর (হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের অকার্যকারিতা) হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
পরিবারের আইনজীবী ইউরি ক্রাসুলিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক ফলাফল এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরুর ঘটনাটি এটাই নির্দেশ করে যে, কাঁদুনে গ্যাসের ভারী ধোঁয়ার কারণেই ক্রিস্টোফের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। গত সোমবার ক্রিস্টোফের বাবা-মা ও তার সঙ্গী কর্তৃক দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্লেস দে লা রিপাবলিক এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় তিনি তীব্র কাঁদুনে গ্যাসের সম্মুখীন হন। এর প্রেক্ষিতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক ইচ্ছাকৃত সহিংসতার জেরে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। আইনজীবী আরও বলেন, হৃদযন্ত্রের ওপর কাঁদুনে গ্যাসের মারাত্মক প্রভাবের বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এবং তারা এই মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয় সোমবার বিএফএমটিভি-কে জানায়, গত সপ্তাহে সম্পন্ন হওয়া ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে যে ক্রিস্টোফ মূলত "পূর্ববর্তী হৃদরোগের জটিলতার সাথে তীব্র কার্ডিওরেসপিরেটরি ফেইলিউর"-এর কারণে মারা গেছেন। তবে পরীক্ষায় তার শরীরে কোনো আঘাত, ধস্তাধস্তি বা বলপ্রয়োগের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী বিচারকের তত্ত্বাবধানে এই ঘটনার আরও গভীর ফরেনসিক বিশ্লেষণের অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সে সময় বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং বেশ কিছু দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দেশজুড়ে দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছিল। সূত্র: বিএফএমটিভি (ফ্রান্স)