ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

সংসদে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করতেই ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ প্ল্যাকার্ড, উত্তেজনা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:৪৫ পিএম

জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সময় তাঁদের হাতে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে যখন তাঁর নির্ধারিত ভাষণ দেওয়ার জন্য ডায়াসের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখনই বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।

সংসদ কক্ষে দাঁড়িয়ে তারা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদমূলক লেখা ছিল। সময় সংসদ কক্ষে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

প্রথা অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিতে সংসদে আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে ভাষণ শুরুর আগেই বিরোধী দলের এই বিক্ষোভ সংসদের পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে।

সংসদে উপস্থিত সদস্যদের অনেকেই ঘটনাকে অস্বাভাবিক নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। সংসদে সাধারণত রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সদস্যরা নিরবতা বজায় রেখে বক্তব্য শোনেন। কিন্তু এদিন পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন।

রাষ্ট্রপতি ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুরু করার পরও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা হট্টগোল চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শুরু করেন এবং নির্ধারিত বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন। তবে বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতিবাদ থামেনি। সংসদ কক্ষে তখনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছিল।

এক পর্যায়ে প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত জোটের সাংসদরা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। ওয়াকআউটের মাধ্যমে তাঁরা রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতি নিজেদের আপত্তি প্রকাশ করেন।

সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাধারণত সরকারের নীতি, পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ কর্মসূচির সারসংক্ষেপ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই ভাষণের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিরোধী দলের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, হট্টগোল ওয়াকআউটের ঘটনায় সংসদের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সংসদের শুরুতেই এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ভবিষ্যতের সংসদীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের এই প্রতিবাদ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর