ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানাই : জামায়াত আমির


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:০২ পিএম

দেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের নদী-খাল পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একসময় কার্যত নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। তখন দেশের নদীগুলো সচল ছিল এবং নদীপথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ছিল অত্যন্ত সহজ। কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ এবং জমির উর্বরতা রক্ষায় নদীগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ থাকায় অতীতে ঘন ঘন বন্যা ও দুর্ভোগের ঘটনা তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর বিভিন্ন কারণে দেশের নদী-নদী, খাল এবং বিলের নাব্যতা কমতে থাকে। এর ফলে অনেক নদী ভরাট হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, একদিকে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব, অন্যদিকে নদী ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এক সময়ের স্রোতস্বিনী অনেক নদী এখন ভরা মৌসুমেও পানি ধারণ করতে পারে না। ফলে বর্ষাকালে অকাল বন্যার সৃষ্টি হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে অনেক নদী প্রায় শুকিয়ে যায়।

তার মতে, বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি বড় বড় শহর ও নগরেও জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দেয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নৌ চলাচল ও কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি দেখা দেয়।

জামায়াত আমির বলেন, দেশের প্রধান নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যাপক ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। নদীগুলোকে সচল করা গেলে দেশের পরিবেশ, কৃষি এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে ড্রেজিং, নদীশাসন বা নদী সংস্কারের নামে বিভিন্ন সময় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও তার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। এর অন্যতম কারণ ছিল লুটপাট ও অনিয়ম। তাই এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সম্পদ মূলত জনগণের আমানত। তাই সেই সম্পদ যথাযথভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার জনগণের পক্ষে দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপকের ভূমিকা পালন করবে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু খাল খনন করলেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। খাল খননের পাশাপাশি নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নদীগুলো প্রাণ ফিরে পেলে এবং স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে এলে তবেই খাল খনন কর্মসূচির প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।

জামায়াত আমিরের মতে, নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নৌ চলাচল উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর