বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও গণভোটের ফলাফলই প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং এটিই গণসমর্থনের স্পষ্ট প্রমাণ।
তিনি বলেন, “বলবেন যে জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে, তার প্রমাণ কী? ৭০ ভাগ জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে—এটাই তার প্রমাণ। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ছিলাম। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আছি। আমরা দেখিয়ে যাব, এই সংসদ মানুক আর না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব।”
সোমবার (৬ মার্চ) দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছরে বিভিন্ন সময় যে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে, তা জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তার ভাষায়, “৫৪ বছরে দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে চব্বিশের বিপ্লবীরা ছুড়ে মেরেছিল বঙ্গোপসাগরে, নালায়, নর্দমায়।”
বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখন আবার কিছু শক্তি সেই পরিত্যক্ত ফ্যাসিবাদকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণ বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, “মনে রাখা দরকার, এই প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা জেগে উঠলে মাসের পর মাস, বছরের বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তাদের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদিদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।”
বিরোধীদলীয় এই নেতা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং বিরোধী দল তাদের পাশে রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, “যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের যাত্রা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে।”
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে প্রতিহত করবেন।
“আমরা এই যাত্রা, কদম কদম যাত্রা থামিয়ে দেব ইনশা আল্লাহ। আমরা এগোতে দেব না,”—বলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণভোট, সংসদীয় বৈধতা এবং জনসমর্থনের প্রশ্নে এই ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে গণভোটের অবস্থান এবং সংসদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।
সামগ্রিকভাবে, এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে এর প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।