ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব ও অংশগ্রহণ। তালিকায় ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী মনোনয়ন পাওয়ায় একই পরিবারের তিনজন সদস্য সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া নিপুণ রায় চৌধুরীর রাজনৈতিক অবস্থান ও পারিবারিক প্রভাবকে ঘিরে আলোচনা চলছে। তার মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সংসদীয় রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিপুণ রায় চৌধুরী ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন।
তার পারিবারিক প্রেক্ষাপটও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার বাবা নিতাই রায় চৌধুরী চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, তার শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে সংসদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নিপুণ রায় চৌধুরীর মনোনয়নের মধ্য দিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্য সংসদীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে, যেখানে একই পরিবারের একাধিক সদস্য জাতীয় সংসদের বিভিন্ন আসনে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
বিএনপির ঘোষিত ৩৬ জনের তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি নতুন ও তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, শাকিলা ফারজানা, বিথিকা বিনতে হোসাইন এবং সানসিলা জেবরিন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বিএনপি জানিয়েছে, দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবদান এবং ত্যাগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর