সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া ফাহমিদা হক–কে ঘিরে চলমান আলোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তার স্বামী ও টক শো উপস্থাপক জিল্লুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, স্ত্রীর সংসদ সদস্য হওয়া তার পেশাগত অবস্থান বা দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের তালিকায় ফাহমিদা হকের নাম আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আবার কেউ তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক কার্যক্রম নিয়েও মতামত প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তার স্বামী জিল্লুর রহমানকেও নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ফাহমিদা হকের জনসম্পৃক্ততা নতুন নয়; দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লেখালেখি, সামাজিক উদ্যোগ এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনার সঙ্গে যুক্ত। তার ভাষায়, ফাহমিদা বিভিন্ন সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং এসব অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই তার জনজীবন ও রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফাহমিদা হক যে মনোনয়ন পেয়েছেন তা তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কাজের ধারাবাহিকতারই ফল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফাহমিদা সংসদে দায়িত্ব পালন করে দেশের গণতান্ত্রিক আলোচনা ও সংসদীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।
জিল্লুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, তার পেশাগত পরিচয় একজন সাংবাদিক, কলামিস্ট, টক শো উপস্থাপক এবং একটি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে। এই অবস্থান আগের মতোই স্বাধীন ও অপরিবর্তিত থাকবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একই পরিবারের সদস্য হলেও তাদের পেশাগত দায়িত্ব ভিন্ন হতে পারে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে পেশাগত সততা ও স্বাধীনতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ফাহমিদা হকের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে চলমান বিতর্কের মধ্যে জিল্লুর রহমানের এই বক্তব্য আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয় বরং যোগ্যতা ও কাজের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক ভূমিকা মূল্যায়ন করা উচিত।
আকাশজমিন / আরআর