জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নুসরাত তাবাসসুমকে সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট আকারে প্রকাশ না করার আবেদন জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন। রোববার (৩ মে) তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন।
আবেদনে মনিরা শারমিন বলেন, তার দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি এখনো শেষ হয়নি। এ অবস্থায় নুসরাত তাবাসসুমকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হলে তিনি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তাই চূড়ান্ত আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
মনিরা শারমিন আরও উল্লেখ করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তার মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন, তবে সেটিও খারিজ হয়। এরপর তিনি বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। সেই রিটের শুনানি আগামী ৪ মে নির্ধারিত রয়েছে। তাই তিনি মনে করেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের উচিত গেজেট প্রকাশ না করা।
অন্যদিকে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র প্রথমে যাচাই-বাছাইয়ে গ্রহণ না হলেও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে মনিরা শারমিনের রিট মামলার রায়ের ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। আদালত যদি তার পক্ষে রায় দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসনে পুনরায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে। আর যদি রিট খারিজ হয়, তবে নুসরাত তাবাসসুম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেটভুক্ত হবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মোট ৪৯ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে একটি আসনকে ঘিরে এখনো আইনি জটিলতা চলমান রয়েছে, যার কারণে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ ঝুলে আছে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।