ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

মা দিলারা জামানকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ মেয়ের


  • আপলোড সময় : রবিবার ১০ মে, ২০২৬ সময় : ৪:২০ পিএম

বিনোদন ডেস্ক

বাংলা নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা জামানকে দর্শক বরাবরই দেখেছেন মমতাময়ী মা কিংবা কঠোর অভিভাবকের চরিত্রে। তবে পর্দার বাইরের দিলারা জামানকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁর মেয়ে জুবায়রা জামান চৌধুরী। মায়ের প্রতি ভালোবাসা, অভিমান, শ্রদ্ধা আর না বলা অনুভূতির কথাই উঠে এসেছে তাঁর লেখায়।

জুবায়রা জানান, প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি দেশের বাইরে বসবাস করছেন। ২০১৪ সালে তাঁর বাবা মারা যাওয়ার আগে মেয়ের কাছে একটি কথাই বলেছিলেন—‘তোর মায়ের দায়িত্ব আমি তোকে দিয়ে যেতে চাই।’ কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর দিলারা জামান যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকতে রাজি হননি। গ্রিন কার্ড পর্যন্ত ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। সেই সময় নিজেকে ব্যর্থ মনে হয়েছিল বলে জানান জুবায়রা।

মায়ের সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে বড় অভিমান পর্দার অভিনয় ঘিরে। নাটকে ছেলেমেয়েদের জড়িয়ে ধরা বা চুমু খাওয়ার দৃশ্য দেখলে মন খারাপ হয় বলে জানান তিনি। কারণ বাস্তব জীবনে দিলারা জামান খুব একটা আবেগ প্রকাশ করতেন না। জুবায়রার ভাষায়, তাঁদের প্রজন্ম হয়তো ভালোবাসার প্রকাশকে এতটা গুরুত্ব দিত না।

দিলারা জামান ছিলেন অত্যন্ত কঠোর মা। দুই মেয়েকে কঠোর শাসনের মধ্যে বড় করেছেন তিনি। সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরতে হতো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা বাইরে খাওয়ার সুযোগও খুব সীমিত ছিল। ছেলে বন্ধুদের বাসায় আনার অনুমতি থাকলেও তা ড্রয়িংরুম পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এই কঠোরতার মধ্যেই সন্তানদের সততা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি।

জুবায়রা জানান, তাঁর বাবা বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) ছিলেন। বাবা-মা দুজনই সৎ জীবনযাপন করেছেন এবং কোনো ধরনের লোভ-লালসার কাছে মাথা নত করেননি। সেই শিক্ষা সন্তানদের মধ্যেও প্রভাব ফেলেছে।

চট্টগ্রামে থাকাকালে দিলারা জামান থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে ঢাকায় এসে সংসার ও সন্তানদের জন্য অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন। স্কুলে আনা-নেওয়া, রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব নিজ হাতে সামলাতেন। সন্তানদের কখনো গৃহপরিচারিকার রান্না খেতে দেননি বলেও জানান তাঁর মেয়ে।

পরে হুমায়ূন আহমেদের ‘এইসব দিনরাত্রি’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে ফেরেন দিলারা জামান। তখন থেকেই মা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন পরিচিতি পান তিনি। জুবায়রার মতে, পরিবারের জন্যই নিজের ক্যারিয়ারে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাঁর মা।

মায়ের মানবিক দিক নিয়েও কথা বলেছেন জুবায়রা। তিনি জানান, কারও অসুস্থতা, পড়ালেখা বা আর্থিক সমস্যার কথা শুনলে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যেতেন দিলারা জামান। নিজের জমানো অর্থও অনেক সময় অন্যদের জন্য খরচ করে ফেলতেন। অনেকে সেই উদারতার সুযোগ নিলেও তিনি তা নিয়ে ভাবতেন না।

জুবায়রা আরও জানান, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে আশিক নামে একটি ছেলে বড় হয়েছে। দিলারা জামান তাকে নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করেছেন। বর্তমানে আশিকই তাঁর সঙ্গে থাকে এবং দেখাশোনা করে।

বর্তমানে বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও কাজই দিলারা জামানের সবচেয়ে বড় সঙ্গী বলে মনে করেন তাঁর মেয়ে। ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা ও শ্রবণ জটিলতা থাকলেও অভিনয় তাঁকে একাকিত্ব থেকে দূরে রাখে।

বিদেশে থাকলেও মায়ের হাতের রান্না, বিশেষ করে মাছের ঝোল আজও খুব মিস করেন জুবায়রা। তাঁর ভাষায়, কম মসলার হালকা ঝোলের সেই স্বাদ এখনও ভুলতে পারেননি তিনি।

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর