ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

খলনায়ক ও কৌতুকে অনন্য এ টি এম শামসুজ্জামানের জন্মবার্ষিকী আজ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:২২ এএম

বিনোদন ডেস্ক

বাংলা চলচ্চিত্রের রুপালি জগতে যিনি খলচরিত্র থেকে কৌতুক কিংবা গম্ভীর চরিত্র—সবখানেই নিজের অভিনয়ের জাদু ছড়িয়েছেন, তিনি কিংবদন্তি অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান। আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান নাম নিয়ে ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী দর্শকদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। আজ তাঁর জন্মবার্ষিকী। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিচরণ করা এই মহান শিল্পী ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করলেও তাঁর অভিনীত কালজয়ী চরিত্রগুলোর মাধ্যমে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

 

সিনেমা জগতে এ টি এম শামসুজ্জামানের পথচলা কেবল ক্যামেরার সামনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তাঁর ক্যারিয়ারের সূচনা ঘটেছিল রূপালী পর্দার পেছনের কারিগর হিসেবে। ১৯৬১ সালে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন কারিগরি দিকের পাশাপাশি গল্প ও চিত্রনাট্য রচনায় নিজের অসাধারণ মুন্সিয়ানা প্রদর্শন করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকারদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম গল্প ও চিত্রনাট্য লিখে তিনি লেখক হিসেবে সুধী মহলে আত্মপ্রকাশ করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিমার্জনের কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যা বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে।

 

তবে পর্দার পেছনের কাজের চেয়ে দর্শকমহলে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় ও পরিচিতি গড়ে ওঠে একজন শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি অভিনয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৬৮ সালে প্রখ্যাত নির্মাতা নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ চলচ্চিত্রে একটি ছোট কৌতুক চরিত্রে প্রথম রূপালী পর্দায় মুখ দেখান এ টি এম শামসুজ্জামান। শুরুতে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে যাত্রা করলেও পরবর্তীতে নিজের অভিনয় শৈলীকে বহুমুখী চরিত্রে ছড়িয়ে দেন। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় বা টার্নিং পয়েন্ট আসে ১৯৭৬ সালে। বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই সিনেমায় তাঁর অভিনয় এতটাই জীবন্ত ও প্রশংসিত হয়েছিল যে এর পর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

 

খল চরিত্রকে তিনি এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যান যেখানে ক্রুরতা, কূটবুদ্ধি এবং নিজস্ব বাচনভঙ্গি মিলে এক অনন্য ধারা তৈরি হয়। ‘নয়নমণি’র অভাবনীয় সাফল্যের পর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো অসংখ্য বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমায় খলনায়ক হিসেবে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। তবে নিজেকে শুধুই খল চরিত্র বা ভিলেনের গণ্ডিতে আটকে রাখেননি এই প্রতিভাবান শিল্পী। চরিত্র পরিবর্তনের অদ্ভুত এক রূপান্তর ক্ষমতা ছিল তাঁর মধ্যে। একদিকে কুটিল খলনায়ক হিসেবে দর্শকদের ভীতি জাগিয়েছেন, অন্যদিকে নিখাদ কৌতুক চরিত্রে মানুষকে হাসিয়েছেন অকাতরে। ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় তাঁর স্বভাবসুলভ ও রসে ভরা অভিনয় দর্শকদের ব্যাপকভাবে আনন্দিত করেছে।

 

বাণিজ্যিক ধারার পাশাপাশি সাহিত্যনির্ভর ও বক্তব্যধর্মী সিনেমাতেও এ টি এম শামসুজ্জামানের অভিনয় ছিল সমানভাবে ভাস্বর। ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ও ‘গেরিলা’র মতো ঐতিহাসিক ও কালজয়ী সিনেমায় তিনি বৈচিত্র্যময় সব চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয় প্রতিভার গভীরতা প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মতো ধ্রুপদী সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শায় যে সাধারণ ধারার বাইরে গিয়ে গভীর চরিত্র রূপায়নে তিনি কতটা দক্ষ ছিলেন। চলচ্চিত্র জীবনের শেষভাগে ২০০৯ সালে তিনি ‘এবাদত’ নামের একটি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেন।

 

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য কালজয়ী চরিত্রে কাজ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচুর সম্মাননা লাভ করেছেন এই মহীরূহ। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও কৌতুক অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’ সিনেমার


এ সম্পর্কিত আরো খবর