বিনোদন ডেস্ক
তামিল রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা উপলক্ষে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনের বহু তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক আবহের পাশাপাশি বিনোদন জগতের রঙও ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পুরো অনুষ্ঠানের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন। তার উপস্থিতি মুহূর্তেই নজর কাড়ে ভক্ত ও অতিথিদের। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সংযত সাজে তিনি হয়ে ওঠেন অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
আইস-ব্লু রঙের কাঞ্জিভরাম সিল্ক শাড়িতে অনুষ্ঠানে হাজির হন তৃষা। শাড়িতে সূক্ষ্ম সোনালি কারুকাজ তার লুককে আরও নান্দনিক করে তোলে। সঙ্গে ছিল ক্রিম রঙের এমব্রয়ডারি করা ব্লাউজ, যা পুরো সাজে আনে ভারসাম্য ও আভিজাত্য। দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় তার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত পরিশীলিত ও আকর্ষণীয়।
চুলে নিচু খোঁপায় গাঁথা ছিল সুগন্ধি জুঁই ফুল, যা তার লুকে যোগ করে অতিরিক্ত সৌন্দর্য। হীরা ও চুনি বসানো নেকলেস, মানানসই কানের দুল এবং ছোট টিপ তার সাজকে করে তোলে সম্পূর্ণ। মেকআপেও ছিল স্বাভাবিকতা—হালকা কাজল, নরম ব্লাশ ও মভ শেডের লিপস্টিক তাকে দিয়েছে স্নিগ্ধ ও মার্জিত উপস্থিতি।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে তিনি হাত নেড়ে ভক্তদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা উমা কৃষ্ণন। তার উপস্থিতিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা।
তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম প্রধান বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দক্ষিণী সিনেমা ও রাজনীতির মিলনস্থল তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরেই পর্দায় বিজয় ও তৃষা একসঙ্গে কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ‘ঘিলি’ থেকে শুরু করে ‘লিও’ পর্যন্ত তাদের একাধিক সিনেমা দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফলে রাজনৈতিক জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তৃষার উপস্থিতি আলাদা তাৎপর্য বহন করে বলে মনে করছেন অনেকে।
অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তৃষা বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন এবং সামনে আরও বড় দায়িত্ব অপেক্ষা করছে। তার এই মন্তব্য ঘিরেও ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুতে চলছে ব্যাপক আলোচনা। দীর্ঘ ছয় দশকের রাজনৈতিক ধারায় প্রথমবারের মতো ডিএমকে ও এআইএডিএমকে ছাড়া নতুন কোনো শক্তির সরকার গঠনের বিষয়টি রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনের পর জোট গঠন ও সমর্থন নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যায় বিজয়ের দল।
বিজয়ের নতুন রাজনৈতিক যাত্রাকে দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক তারকাই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অভিনেতা কমল হাসান সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, বিজয়ের নেতৃত্বে তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে। অন্যদিকে অভিনেতা আর মাধবনও শুভকামনা জানিয়ে পোস্ট দেন।
তবে সব আলোচনাকে ছাপিয়ে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বেশি আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে তৃষা কৃষ্ণনের উপস্থিতি। ভক্তদের মতে, সময় বদলালেও বিজয় ও তৃষার পর্দার জনপ্রিয়তা ও সম্পর্কের উষ্ণতা এখনও সমানভাবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর