স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আসন্ন কমিটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয়, ত্যাগী এবং বারবার নির্যাতিত ও কারাবরণকারী নেতাদের শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়ে আসার দাবি এখন তৃণমূলের। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনার শীর্ষ সারিতে উঠে এসেছেন সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা ও যুবদল উত্তর শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আমিনুল হক হিমেল। মোঃ আমিনুল হক হিমেলের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ঐতিহ্যবাহী সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের মাধ্যমে।
তিনি ২০০২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিটি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখ সারির একজন নির্ভীক যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০০৫ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হন। একই বছরে তিতুমীর কলেজ হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬-২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ক্যাম্পাসে সংগঠনকে সুসংগঠিত করেন। ২০২২ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের শফিকুল ইসলাম মিল্টন - মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল কমিটির অত্যন্ত দক্ষ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে মোঃ আমিনুল হক হিমেলকে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুলশান ও বনানী থানাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ২২টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে তিনটি মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট ৪ বার কারাবরণ করেন এবং জীবনের মূল্যবান ১ বছরেরও বেশি সময় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটান।
পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে সারেন্ডার করে তিনি জামিনে মুক্ত হন। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনীর বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক হামলায় আমিনুল হক হিমেল গুরুতরভাবে জখম হন। ওই হামলায় পুলিশের নির্মম পিটুনিতে তার বাম হাত এবং বাম পায়ের প্যাটেলা হাঁটুর বাটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ডাঃ শাহ আমান উল্লাহ আমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রায় দুই বছর শয্যাশায়ী ও চিকিৎসাধীন থাকার পর পঙ্গুত্বকে জয় করে বর্তমানে তিনি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে পুনরায় রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছেন।
আমিনুল হক হিমেল জন্মসূত্রেই একটি ঐতিহ্যবাহী জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়েছেন। তার পিতা মৃত মোঃ নূরুল হক গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার সিংহশ্রী ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত দীর্ঘ ১২ বছরের সফল ইউপি মেম্বার ছিলেন এবং ১৯৮৭ সালে কাপাসিয়া থানা বিএনপি কমিটির অন্যতম সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
মহানগর উত্তর যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হিমেলের মতো রাজপথের পরীক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও চরম ত্যাগ স্বীকারকারী নেতাদের আগামী দিনের নেতৃত্বে নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করতে গিয়ে যিনি নিজের জীবন বাজি রেখেছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের শীর্ষ পদে মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুসংগঠিত হবে।
আকাশজমিন / আরআর