নিরাপত্তাজনিত কারণে মতিঝিলের অস্থায়ী কার্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি জানিয়েছেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন থেকে নতুন ঠিকানায় পরিচালিত হবে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, মতিঝিল এলাকায় হোটেল পারাবাতের গ্যারেজে স্থাপিত অস্থায়ী কার্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণে মতিঝিলের হোটেল পারাবাতের গ্যারেজে থাকা অস্থায়ী অফিসের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এখন থেকে সব সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম রূপায়ণ টাওয়ারের ১৫ তলায় পরিচালিত হবে।”
তিনি আরও জানান, দলের সব কার্যক্রম নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেখানে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে এবং কোনো ধরনের বাধা বা পরিস্থিতি তাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।
পোস্টে তিনি দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার জনগণের আস্থা, রাজনৈতিক শালীনতা, নিরাপত্তা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পূর্ববর্তী স্থানে কেউ যদি কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি, হামলা, মামলা বা ক্ষতির সম্মুখীন হন, তাহলে তার জন্য ব্যক্তি নিজেই সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবেন। এ কারণে সবাইকে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের অস্থায়ী কার্যালয় নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানান্তর করা কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতামত তৈরি হচ্ছে।
এদিকে দলীয় সূত্রের দাবি, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ঠিকানা হিসেবে রূপায়ণ টাওয়ারকে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে এখন থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর নিরাপত্তা এবং সংগঠন পরিচালনার জায়গা নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হতে পারে।