ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

রাজনীতি থেকে অবসরের গুঞ্জন পুরোপুরি নাকচ করলেন শেখ হাসিনা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ জুন, ২০২৬ সময় : ৭:৪১ পিএম

অনলাইন ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছেড়ে রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার সব ধরনের গুঞ্জন ও সম্ভাবনা পরিষ্কারভাবে নাকচ করেছেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে এই চরম সংকটের মধ্যে রেখে তিনি কোনোভাবেই বিশ্রামে যেতে পারেন না।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের অবসরের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেন শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দেশ ছাড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, ‘দেশের জন্য কঠোর পরিশ্রম করা সত্ত্বেও সম্প্রতি যা যা ঘটল, তাতে মা খুবই হতাশ। তাই তিনি আর রাজনীতি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বারবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব পুনর্গঠন এবং শেখ হাসিনার অবসরের গুঞ্জন তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার কাছে ‘এই সময়’ সরাসরি জানতে চায়, তিনি কি তাঁর ছেলের দেওয়া সেই রাজনীতি না করার সিদ্ধান্তে এখনো অনড় আছেন? এর জবাবে একটি লিখিত বার্তায় শেখ হাসিনা পুরো বিষয়টি নাকচ করে দেন। বাংলাদেশে বর্তমানে ‘গণতন্ত্র আক্রান্ত’ এবং তাঁর দলের নেতাকর্মীরা চরমভাবে নির্যাতিত হচ্ছে বলে দাবি করেন শেখ হাসিনা। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এমন একটা সময়ে আমি কিভাবে বলি, বিশ্রামে যাচ্ছি?’ দেশের এবং দলের এই ক্রান্তিকালে রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা বজায় থাকবে বলেই তিনি আভাস দেন।

রাজনীতি থেকে নিজের চূড়ান্ত বিদায়ের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আগামী দিনের সাফল্য নিশ্চিত করে তার পরেই আমি অবসর নেব।’ তবে সে ক্ষেত্রে দলের পরবর্তী নেতৃত্ব আসলে কাদের হাতে যাচ্ছে বা কোনো বিশেষ উত্তরাধিকার বেছে নেওয়া হচ্ছে কি না—এই সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ প্রধান স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি গণতান্ত্রিক দল। কাউন্সিল (সম্মেলন)-এর মাধ্যমে, কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।’ অবশ্য শেখ হাসিনা অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁর দল এই মুহূর্তে একটা বড় ধরনের প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় একাধিক মামলায় শেখ হাসিনাকে ইতিমধ্যে মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশে ফেরত আনতে ভারত সরকারকে কূটনৈতিক চ্যানেলে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিকবার দাবি করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই দেশে ফিরবেন। সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে ফেরার জল্পনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।’

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর