আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত বিচারে যদি দেখা যায় যে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, তবেই কেবল তারা দেশে পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সুযোগ পাবেন। পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের একচ্ছত্র এখতিয়ারভুক্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, নীতি ও দেশের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এই মন্তব্য করেন। নিয়মিত এই সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী আদেশে বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর চেষ্টা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা সবাইকে রাষ্ট্রের বিদ্যমান আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দল হিসেবে তাঁদের সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ও স্থগিত আছে। তাই আমি বলব, তাঁরা একটু অপেক্ষা করুন। বিষয়টি এখন আদালতে যাবে। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে দলটির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সুতরাং সেই আইনি তদন্ত ও বিচার শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে। বিচারে যদি প্রমাণিত হয় বা দেখা যায় যে তাঁদের স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না—আমি আবারও বলছি, এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার, আদালত সব পক্ষকে শুনে এবং তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন—তাহলে আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁরা পরবর্তীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে সাভারে এনসিপির (ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টি) সমাবেশে ককটেল হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য ও আনীত সুনির্দিষ্ট অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ বলে মনে করেন তিনি।
এরপর দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সূত্রের বরাত দিয়ে তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক পথরেখা বা রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন। দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক পৃথক রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে এই পরিকল্পনাগুলো চূড়ান্ত করে দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা হতে পারে। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে পরবর্তী ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা।