নুসরাত ফারিয়া, মডেল ও অভিনেত্রী
দেশের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া কাজের ব্যস্ততার মাঝেও সুযোগ পেলেই নতুন কোনো দেশে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন। বিশ্বের নানা প্রান্তে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকলেও তুরস্কের প্রতি রয়েছে তার আলাদা এক টান। সম্প্রতি নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি জানান, অবসর পেলেই আবারও তুরস্কে ছুটে যেতে মন চায়।
নুসরাত ফারিয়ার ভাষায়, দেশের নাম বদলালেও তার সৌন্দর্য বদলায়নি। ‘তুর্কি’ কিংবা ‘তুরস্ক’—যে নামেই ডাকা হোক না কেন, দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং সংস্কৃতির আকর্ষণ তাকে বারবার টেনে নেয়। তাই সামান্য সময়ের সুযোগ মিলতেই আবারও তিনি পাড়ি জমান এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থলের এই অনন্য দেশে।
ইস্তাম্বুলের সমুদ্রঘেঁষা পাহাড়ি পরিবেশে কাটানো মুহূর্তগুলো তার কাছে ছিল স্মরণীয়। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধন তাকে নতুন করে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, ইস্তাম্বুলে গেলেই যেন নতুন করে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়, যা সহজে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
অটোমান সাম্রাজ্যের অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন এখনও তুরস্কের গৌরব বহন করছে। তোপকাপি প্রাসাদ, রুমেলি হিসারি দুর্গ, ডলমাবাহচে প্রাসাদ, পিয়েরি লোটি হিল, গ্রান্ড বাজার, বসফরাস ক্রুজ, হাগিয়া সোফিয়া এবং সুলতানাহমেট স্কয়ার—প্রতিটি স্থানই পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল রোমাঞ্চকর।
তিনি জানান, ২০২৩ সালে প্রথমবার ইস্তাম্বুল সফরে গিয়ে যেমন মুগ্ধ হয়েছিলেন, এবারও সেই অনুভূতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং পরিচিত স্থানগুলো আবারও ঘুরে দেখেও সবকিছু নতুন মনে হয়েছে। তার মতে, প্রকৃতির সৌন্দর্য প্রতিবারই নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগ এনে দেয়।
নিজের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে নুসরাত ফারিয়া বলেন, বাংলাদেশ যেমন তার হৃদয়ের খুব কাছের, তেমনি তুরস্কের প্রতিও রয়েছে গভীর ভালো লাগা। দেশটিতে গেলেই তার মনে ভেসে ওঠে পরিচিত সেই গান—‘ঐ দূর পাহাড়ের ধারে...’। পাহাড়, সমুদ্র, ইতিহাস আর সংস্কৃতির অপূর্ব সমন্বয় তাকে বারবার সেখানে ফিরে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
পেশাগত কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুটিংয়ের সুযোগ হয়েছে তার। তবে শুধুই কাজের প্রয়োজনে ভ্রমণ তার ভ্রমণপিপাসু মনকে কখনও তৃপ্ত করতে পারেনি। তাই সুযোগ পেলেই নিজের আগ্রহ থেকে নতুন নতুন দেশ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করেন। তার ভাষায়, এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে ছুটে যাওয়ার মধ্যেই তিনি খুঁজে পান ভিন্ন এক আনন্দ।
এ পর্যন্ত তিনি উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহর ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া ভারতের কলকাতা ও মুম্বাই সফরও ছিল তার কাছে দারুণ অভিজ্ঞতার। অঞ্চলভেদে মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ভাষার ভিন্নতা তাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
কানাডায় তিনি একাধিকবার গেছেন। গত বছর ‘ফোবানা’ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেশটিতে সফর করেন। সেখানে তুষারে ঘেরা প্রকৃতি, বরফে ঢাকা পরিবেশ এবং নায়াগ্রা ফলসের বিশাল জলরাশি তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। একইভাবে জাপান সফরে মাউন্ট ফুজির সামনে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির বিশালত্ব উপলব্ধি করেন তিনি। তার মতে, এমন মুহূর্ত মানুষকে বিনয়ী হতে শেখায় এবং বুঝিয়ে দেয় প্রকৃতির তুলনায় মানুষ কত ক্ষুদ্র।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্ন শহরও তার প্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি লন্ডন সফরের স্মৃতিও তার কাছে বিশেষ। তিনি জানান, প্রতিটি দেশ তাকে নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে, নতুন মানুষ ও নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা জীবনের পরিধিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
নুসরাত ফারিয়ার মতে, ভ্রমণ কেবল একটি স্থান দেখা নয়; এটি নতুন সংস্কৃতি, ইতিহাস, মানুষ এবং প্রকৃতিকে জানার এক অনন্য সুযোগ। তাই সময়-সুযোগ পেলেই তিনি নতুন কোনো গন্তব্যে ছুটে যেতে চান। ভবিষ্যতেও বিশ্বের আরও অনেক দেশ ঘুরে দেখার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন এই মডেল ও অভিনেত্রী।