দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—এই চার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের পরিবর্তন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া নিজস্ব এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
টানা বৃষ্টি, নজিরবিহীন জলাবদ্ধতা ও দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির তোয়াক্কা না করে গতকাল সোমবার জোরপূর্বক এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার তীব্র প্রতিবাদে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে আজ সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে একযোগে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন সাধারণ পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই দেশব্যাপী আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই চার মন্ত্রীর পরিবর্তনের এই দাবি তুললেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা।
এর আগে আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অন্য এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন নিয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন,
"শিক্ষার্থীরা যখনই কোনো ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাজপথে নামে, তখনই তাঁদের কোনো না কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে কিংবা ট্যাগ দিয়ে ভাগ করার একটি অপচেষ্টা শুরু হয়। অথচ একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের, বিশেষ করে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরার শতভাগ সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।"
সাম্প্রতিক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের খামখেয়ালিপনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ সয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে উল্লেখ করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, এ ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধানের পথ খোঁজা নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তিনি একই সাথে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "আমি প্রত্যাশা করি, কোনো রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্রদল বা অন্য যে-ই হোক না কেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই অরাজনৈতিক আবেগের পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে পরিবেশ আরও অস্থির করে তুলবে না। একইভাবে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সর্বোচ্চ সংযমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে।"
বিদ্যমান এই জাতীয় সংকট থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকর ও একমাত্র উপায় হলো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারকদের দ্রুত ও আন্তরিক সংলাপে বসা। এ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রয়োজনে নিজেদের ভুল স্বীকার করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। আর যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের প্রতি জনআস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে দায়িত্বশীল ব্যক্তির পদত্যাগের বিষয়টিও টেবিলে আনা উচিত। কারণ সত্যিকারের গণতন্ত্রে জবাবদিহিতা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং তা একজন নেতৃত্বের সততা ও মহান দায়িত্ববোধেরই অনন্য পরিচয় বহন করে। বিবৃতির শেষ অংশে এইচএসসি ও আলিম ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সকল পরীক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের ঘুণে ধরা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় ও আমূল সংস্কার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।