নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তাদের সর্বশেষ অর্থবছরের বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আয়-ব্যয়ের হিসাব শেষে বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে মোট ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।
রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১২টার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হিসাব জমা দেয় বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই প্রতিনিধি দল আজ দুপুরে ইসি সচিবালয়ে পৌঁছায়। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন—দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন। তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির অডিট রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
হিসাব জমাদান শেষে দলীয় আয়ের উৎস সম্পর্কে জানানো হয়, সাধারণত দলের নিবন্ধিত ও সাধারণ সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অনুদান এবং দলীয় বিভিন্ন নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে রাজনৈতিক দলটির মূল আয় অর্জিত হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যয়ের খাতগুলোর বিবরণীতে বলা হয়েছে, দলের সারা বছরের নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা বাবদ খরচ, কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ স্থানীয় কার্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতা এবং দুস্থ ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের আর্থিক সহায়তার খাতে এই অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো দল যদি আইন অমান্য করে পরপর তিন বছর হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের দলীয় নিবন্ধন বাতিলের কঠোর বিধান রয়েছে।