সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ জুলাই দিবাগত রাতে আদালতের কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত। পথে বাগেরহাটের হাড়িখালী এলাকার তেতুলতলা মোড়ে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—শেখ মুরাদ (৪১), আবু তাহের দীপ ওরফে দিপু (২৯), মো. হাফিজুর রহমান (৪৮) এবং শিপন শেখ (২৮)। তাদের বাগেরহাট সদর উপজেলার পিসি ডেমা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শেখ মুরাদকে এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি আধুনিক ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা সহযোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
আইনজীবী নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যার ঘটনায় বাগেরহাটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করায় তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। তবে হত্যার উদ্দেশ্য ও নেপথ্যের কারণ জানতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।