ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

চট্টগ্রামে সাইবার জালিয়াতির গোপন কারখানা, ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৪২ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকার একটি তিনতলা আবাসিক বাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ কায়দায় জালিয়াতির আস্তানা তৈরি করে দেড় মাস ধরে প্রতারণামূলক অনলাইন অপরাধের বড় সাম্রাজ্য চালিয়ে আসছিল ৬৩ জন বিদেশি নাগরিক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের এসব নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বিলাসবহুল বাড়ি ভাড়া নিয়ে সুসংগঠিতভাবে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে তাঁরা এই বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন। পুলিশ জানায়, বাইরে থেকে স্বাভাবিক ও শান্ত একটি সাধারণ আবাসিক ভবন মনে হলেও ভেতরে চলছিল বিশাল এক আন্তর্জাতিক সাইবার ও অনলাইন জালিয়াতির চক্র।


শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ জানান, সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এবং খুলশী থানা পুলিশ যৌথভাবে ওই বাড়িতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত আলামতের বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, বাড়িটিতে অনলাইনভিত্তিক সাইবার জালিয়াতি পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ পরিকল্পিত একটি বিশাল আইটি সেটআপ দাঁড় করানো হয়েছিল। অভিযানে উদ্ধার করা প্রযুক্তিসামগ্রীর সংখ্যা ও পরিমাণ অত্যন্ত বড়।


পুলিশের এই অভিযানে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে সর্বমোট ১৩৪টি অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন এবং ৫৭টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট যে, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রত্যেকের ব্যবহারের জন্য গড়ে দুইটিরও বেশি মোবাইল ফোন ছিল। এসব ছাড়াও একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার এবং পাঁচটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চারটি সিমকার্ড, পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও জব্দ করা হয়েছে। এই বিশাল পরিমাণের ডিজিটাল গ্যাজেট ও সরঞ্জাম কেন এবং কী ধরণের সুনির্দিষ্ট সাইবার অপরাধে ব্যবহার করা হচ্ছিল, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি উদ্ধার করাই এখন তদন্তের প্রধান বিষয়।


তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ জন বিদেশি নাগরিক এক দুবাই প্রবাসীর কাছ থেকে বাড়িটি ভাড়া নেন এবং গত প্রায় দেড় মাস ধরে গোপনীয়তার সাথে সেখানে অবস্থান করছিলেন। তবে এদের কার্যক্রম শুধু এই বাড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই চক্রের পেছনে একটি বিস্তৃত দেশি-বিদেশি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের বেশ কয়েকজন সহযোগী চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান করে স্থানীয় রিচার্জ, বাসা ভাড়া, ইন্টারনেট সংযোগ, অর্থ লেনদেন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুবিধা দিতেন।


বন্দরনগরী হিসেবে চট্টগ্রামে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের যাতায়াত থাকায় এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের ভিসার ধরন, বাংলাদেশে আসার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও অর্থনৈতিক উৎস সম্পর্কেও বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জব্দকৃত প্রযুক্তিপণ্যগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনলাইন চক্রটির আসল বিস্তৃতি ও আর্থিক জালিয়াতির রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর