সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল শুরু হওয়ায় বন্দরে জমে থাকা পণ্য ও যানজটও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।
বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বন্দরের প্রবেশমুখে ট্রাক রিসিভ এবং গেটপাস ইস্যুর কাজ করতেন সিএন্ডএফ এজেন্টদের কর্মীরা। তবে বন্দরে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ার পর শনিবার থেকে বেনাপোল কাস্টমস নতুন নিয়ম চালু করে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কারপাস ইস্যুর ক্ষেত্রে সিএন্ডএফ স্টাফদের ছবিসহ পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানকে পণ্য গ্রহণের বিষয়ে দায়বদ্ধতার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ কারণে শনিবার থেকে সিএন্ডএফ স্টাফরা গেটপাস ইস্যুর কাজ বন্ধ রাখেন। ফলে ভারত থেকে পণ্য আমদানি কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে।
এ সময় বন্দরে কাঁচাপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। এতে আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়েন। বিশেষ করে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া কাঁচাপণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় ট্রাকে কোনো অবৈধ পণ্য থাকলে তার দায়ভার নিতে তারা প্রস্তুত নন। তাই কারপাস ও গেটপাস ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম চালুর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন ছিল।
এ বিষয়ে রোববার বিকেলে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর সোমবার সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়।
সিএন্ডএফ নেতারা জানান, প্রথমে আগের নিয়মে তিন দিন কাজ চলবে। এরপর নতুন নিয়ম অনুযায়ী আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, দেশের অন্যান্য বন্দরের নিয়মের সঙ্গে মিল রেখে কাজ পরিচালনায় তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাবেক সভাপতি মহাসিন মিলন জানান, টানা দুই দিন আমদানি বন্ধ থাকায় কাস্টমস প্রায় ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি ডেমারেজসহ ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, কারপাস ও গেটপাস নিয়ে বেনাপোল কাস্টমস নতুন নির্দেশনা দেওয়ায় সিএন্ডএফ স্টাফরা কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। তবে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন জানান, কারপাস জটিলতার কারণে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পর রোববার বিকেল থেকেই সীমিত আকারে কার্যক্রম শুরু হয়। সোমবার সকাল থেকে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে।
তিনি জানান, গত দুই দিনে দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন্দরে দিন-রাত কাজ চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।