ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলা নিয়ে ফের প্রশ্ন

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পর্যটকের মৃত্যু


  • আপলোড সময় : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:১৪ পিএম

বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে নিরাপত্তা বলয় থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে শৌভিক রায় (২৮) নামের এক পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সৈকতের দরিয়ানগর এলাকায় 'সি স্পোর্টস' পরিচালিত প্যারাসাইলিং পয়েন্টে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং নিয়মিত তদারকি না থাকায় বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত শৌভিক রায় খুলনা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সমন্বয়ে গঠিত ৯ সদস্যের একটি ভ্রমণ দলের সাথে তিনি পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। ছুটির দিনে আনন্দের উদ্দেশ্যে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্যারাসেইলিঙে উঠলেও রাইডটিই তার জীবনে চরম ট্র্যাজেডি ডেকে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উড্ডয়নকালে আকস্মিকভাবে নিরাপত্তা হারনেস (সেফটি বেল্ট) ছিঁড়ে বা খুলে গিয়ে শৌভিক সরাসরি সমুদ্রে আছড়ে পড়েন। এতে তিনি গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার পর সি স্পোর্টস প্যারাসাইলিং কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নিহত পর্যটকের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কক্সবাজার সৈকতে প্যারাসেইলিং কেন্দ্র করে এটিই প্রথম দুর্ঘটনা নয়; বরং নিরাপত্তার অভাব ও অব্যবস্থাপনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এখানে। গত বছরের ৩০ আগস্ট একই দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে এক পর্যটক ঝাউগাছের ডালে দীর্ঘ সময় আটকে থাকেন। ওই ঘটনার পর জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছিল।

এছাড়া ২০২৫ সালের ২০ মে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নিয়ম ভেঙে একই সাথে দুই পর্যটককে নিয়ে উড্ডয়ন করার সময় তারা সমুদ্রে ছিটকে পড়ে মারাত্মক আহত হন। তখন প্রশাসন সরঞ্জাম জব্দ ও রাইড বন্ধ করলেও পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে তা আবার চালু হয়। একই বছরে আরেক নারী পর্যটক একইভাবে আছড়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। প্রতিটি ঘটনার পরই লোকদেখানো সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি হলেও কার্যকর বা স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা সরঞ্জাম, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত অপারেটর, নিয়মিত কারিগরি পরিদর্শন এবং কঠোর প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে। তিনি জোর দাবি জানান যে, পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মান যাচাই এবং নতুন নীতিমালার প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াটার ও এয়ার স্পোর্টস বন্ধ রাখা উচিত।

এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনার পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে উপস্থিত হওয়া জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন) মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান সায়েমের কাছে দায়িত্বরত সাংবাদিকরা বারবার দুর্ঘটনার কারণ ও প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়েই দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। প্রশাসনের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে স্থানীয় ও পর্যটকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর