ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি

সাতক্ষীরায় ৭ নদ-নদীর ৩০২ চিহ্নিত দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে তোলপাড়


  • আপলোড সময় : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:৫০ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সম্প্রতি জেলা প্রশাসন কর্তৃক চিহ্নিত ৭টি প্রধান নদ-নদীর ৩০২ জন প্রভাবশালী দখলদারকে অবিলম্বে উচ্ছেদ ও তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি।

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) শহরের পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক নাগরিক পরামর্শ সভায় বক্তারা এই দাবি জানান। সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মহাসভায় সহযোগিতায় ছিল পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), এএলআরডি এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।

সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক নদী-খাল দখলের কারণে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ইছামতি, কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, যমুনা, খোলপেটুয়া নদী ও প্রাণসায়র খালের ৩০২ জন দখলদারের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাঁদের উচ্ছেদে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু শত কোটি টাকার অবকাঠামো নির্মাণ বা ড্রেনেজ সংস্কার করে নদীকেন্দ্রিক এই জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়; নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে চিহ্নিত ভূমিগ্রাসীদের দ্রুত উচ্ছেদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"

পরামর্শ সভা থেকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০ দফা নাগরিক সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে— নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী ডিজিটাল মানচিত্র প্রণয়ন, চিহ্নিত ৩০২ দখলদারের বিরুদ্ধে নিয়মিত ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালিয়ে উচ্ছেদ অভিযান, সিএস রেকর্ড ধরে নদী-খাল পুনঃখনন, জোয়ার-ভাটা ধরে রাখতে টিআরএম (টিডিআরএম) পদ্ধতি পুনঃকার্যকর করা এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ছাড়া কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ না করা।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, "নদী বাঁচলে সাতক্ষীরা বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে। জেলা প্রশাসন ৩০২ দখলদারের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করলেও তাঁদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবিলম্বে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করে সাতক্ষীরার নদী-খাল দখলমুক্ত করতে হবে।"

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলালের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপ্পী, দৈনিক ‘দক্ষিণের মশাল’-এর সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী এবং ‘বেলা’-র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলীনুর খান বাবুল।

সভা শেষে জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ দপ্তরগুলোতে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সর্বসম্মতিক্রমে ‘সাতক্ষীরা নাগরিক সুপারিশপত্র’ চূড়ান্তকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর