উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 56
রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় বিকল হওয়া ট্রান্সফরমার মেরামতের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করতেই ঘটেছে ভয়াবহ বিপত্তি। নতুন পোর্টেবল ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই হঠাৎ অতিরিক্ত ভোল্টেজ বা হাই-ভোল্টেজের কারণে তিনটি মহল্লার অন্তত ৩০০টি পরিবারের টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ফ্যান ও বাতিসহ বহুমুখী মূল্যবান ইলেকট্রনিক ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কাটাখালী পৌরসভার বাখরাবাজ এলাকায় এই নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আকস্মিক ক্ষয়ক্ষতিতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) টেকনিক্যাল কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কর্মীদের উদ্ধার করে।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, সোমবার রাতের দিকে বাখরাবাজ এলাকার একটি স্থানীয় মসজিদের সামনে থাকা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ট্রান্সফরমারটি হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। ফলে মুহূর্তের মধ্যে বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, মধ্যপাড়া এবং স্কুলপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। গভীর রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে স্থানীয়রা নেসকোর কাটাখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে নেসকোর কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাময়িকভাবে বিকল ট্রান্সফরমার সচল করার উদ্যোগ নেন এবং বিকল্প পোর্টেবল ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করেন। কিন্তু ভৌতিকভাবে সংযোগ দেওয়ার সাথে সাথেই মসজিদের সামনের একটি বাতি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে পুড়ে যায়। চরম বিপদ বুঝতে পেরে কর্মচারীরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও ততক্ষণে তিনটি মহল্লার বাড়ি বাড়ির ফ্রিজ, এসি ও টিভি বিকল হয়ে পড়ে।
ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতায় সংক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে এসে নেসকোর কর্মীদের ঘিরে ধরেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাবধানতা ও কারিগরি গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও স্থানীয় অধিবাসী নাহিদুল ইসলাম জানান, তিনটি মহল্লার প্রায় সব ঘরের ইলেকট্রনিকস সামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে এবং ভুক্তভোগীরা সার্বিক ক্ষতিপূরণের জোরালো দাবি জানাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ ও হিসাব নিরূপণে কাটাখালী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৩০০টি বাড়িতে কোন পণ্যের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ভয়াবহ কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে নেসকোর রাজশাহী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহের তিনটি ফেজের মধ্যে কোনো কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে অস্বাভাবিক ভোল্টেজ চলে আসতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবে কারিগরি ত্রুটি কোথায় ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে নেসকোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন গাফিলতির সঠিক তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের জন্য জরুরি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।