ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬,  ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুর্যোগ মোকাবিলায় ১২ জেলায় আধুনিক স্পিডবো: ত্রাণমন্ত্রী পলাতক ৬৯০ বন্দি এখনও অধরা, তথ্য মিলছে না ১৬৬ জনের: আইজি প্রিজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত ও ৭০ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ আমাদের লজিস্টিক খরচ ১৬ শতাংশ, যা বাজারমূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৩, আহত ২০ নারীদের জন্য বাসের রঙ কেন ‘পিংক’? চলতি অর্থবছরেই অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সরকারের ৫টি নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সিইসি ও আইজিপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এনবিআরকে এমনভাবে গড়ুন যেন মানুষ ভয় না পেয়ে বিশ্বাস করে: প্রধানমন্ত্রী ঋণনির্ভরতা কাটিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

‘২-৩ দিনের মধ্যে গেম হবে’ বাবাকে বলে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ সানোয়ার


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১১:১৫ এএম

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ উপায়ে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে গ্রিসের পথে যাত্রার পর দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ওই যুবকের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ যুবকের নাম সানোয়ার রহমান (২৬)। তিনি দিরাই পৌরসভার ঘাগটিয়া এলাকার রফিক উল্লার ছেলে।


পরিবারের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবন ও ভালো উপার্জনের আশায় মানব পাচারকারী দালালের প্রলোভনে পড়ে লিবিয়ায় পাড়ি জমান সানোয়ার রহমান। সেখানে কিছু দিন অবস্থানের পর দালাল চক্রের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়। গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর দিয়ে গ্রিসের উদ্দেশ্যে অন্য আরও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে ট্রলারে রওনা হন সানোয়ার। তবে ট্রলার ছাড়ার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যাবতীয় যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


নিখোঁজ সানোয়ারের বাবা রফিক উল্লা আকুল কণ্ঠে জানান, প্রায় ২০ দিন আগে ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। সে সময় টেলিফোনে সানোয়ার তাঁকে জানিয়েছিলেন, ‘২–৩ দিনের মধ্যে গেম হবে (সমুদ্রপথে রওয়ানা দেওয়াকে মানব পাচারকারীরা সংকেত হিসেবে গেম বলে থাকেন)।’ বাবার সঙ্গে সেই শেষ বার কথা বলার পরপরই সানোয়ারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে স্বজনেরা নানা উপায়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়েও তাঁর কোনো তথ্য পাননি। রফিক উল্লা বলেন, আমার ছেলে কোথায়, কী অবস্থায় আছে কিছুই জানি না। আমরা সবাই চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি এবং ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি।


একই অবৈধ যাত্রায় সানোয়ারের সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধলচান্দপুর গ্রামের লোহানী মিয়া নামের আরেক যুবক। তবে লোহানী মিয়ার সন্ধান ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। তাঁর চাচা মুহিত মিয়া নিশ্চিত করেছেন যে, লোহানী বর্তমানে মিসরে নিরাপদে অবস্থান করছেন। লোহানীর খোঁজ মেলায় তাঁর পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও সানোয়ারের কোনো তথ্য না পাওয়ায় তাঁর পরিবারে উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে। সানোয়ারের পরিবার ও প্রবাসে থাকা স্বজনেরা লিবিয়া ও গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কমিউনিটি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহায়তা কামনা করেছেন।


এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, মানব পাচার ও নিখোঁজের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি জানার পর পুলিশ প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর