মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিআরটিসির ঐতিহ্যবাহী ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মহিলা বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক শুভসূচনা করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পিংক বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন।
নারীদের জন্য নির্ধারিত এসব বাসের শরীর ও ডিজাইনে কেন বিশেষ ‘গোলাপি’ (পিংক) রঙ বেছে নেওয়া হলো—উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাস চালক সুপ্রিয়া কুন্ডু জানান, পিংক বা গোলাপি রঙ হচ্ছে মূলত একটি অত্যন্ত নম্র, স্নিগ্ধ এবং শান্তির প্রতীক। সাধারণত নারী যাত্রীরা বা নারীরা এই রঙটি খুব পছন্দ করে থাকেন। যেহেতু এই বিশেষ বাস সেবাটি শতভাগ নারীদের কল্যাণেই নিবেদিত, তাই দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে এই রঙটি পছন্দ ও নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
বাস চালক সুপ্রিয়া কুন্ডু আরও বিষদভাবে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতিপূর্বে বিভিন্ন উন্নত দেশ পরিদর্শনের সময় দেখা অভিজ্ঞতার আলোকে এই দূরদর্শী ভাবনাটি মাথায় আসে। সেখানে নারীদের বাসের পাশাপাশি চালকদের পোশাকের রঙও গোলাপি ছিল। সাধারণত নারী সমাজের গোলাপি রঙের প্রতি বিশেষ ভালোলাগা ও আকর্ষণ থাকে। সার্বিক দিক বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী বাসের বডি কালার পিংক করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, যখন কোনো নারী যাত্রী দূর থেকে দেখবেন যে স্টিয়ারিংয়ে একজন নারী চালক পিংক রঙের পোশাকে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নারী যাত্রীদের মনে আলাদা নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতির সৃষ্টি করবে এবং বাসে উঠতে উৎসাহিত করবে। এই নান্দনিক দিকটি মাথায় রেখেই বিআরটিসি কর্মীদের ইউনিফর্ম বা পোশাকের রঙও বাসের সাথে মিলিয়ে পিংক করা হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর